চীনা পণ্যে ৩৫ এবং মেক্সিকো-কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

আগামী ৪ মার্চ থেকে মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ ও চীনা পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপ কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হবে ২ এপ্রিল থেকে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ মাদক ফেন্টানিলের অবাধ প্রবাহ রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি তিন দেশ। তবে পণ্যে শুল্কারোপ এড়াতে সময়সীমার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা করার বিষয়ে আশাবাদী কানাডা ও মেক্সিকোর সরকার প্রধান।

শুল্কারোপের হুমকি দিয়ে কিছুদিন পরপরই বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আবারো হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প জানান, মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ ও চীনা পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। যা কার্যকর হবে মার্চের চতুর্থ দিন থেকে। অন্যদিকে দোসরা এপ্রিল থেকে বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক শুল্কারোপ কার্যকর করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি, পারস্পরিক শুল্কারোপকে তারা যুক্তিসংগত বলেছেন। কেউ আমাদের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করলে আমরা একই কাজ করবো। ১০, ৩০ বা ৭০, মার্কিন পণ্য আমদানিতে যতটুকু শুল্ক ধার্য করা হবে। অপর দেশকে ঠিক সে পরিমাণ শুল্কের বোঝা বহন করতে হবে।'

ট্রাম্পের অভিযোগ, ভয়াবহ মাদক ফেন্টানিলের চোরাচালান রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি এই তিন দেশ। বর্তমানে চীনা পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপের হার ১০ শতাংশ। বিপরীতে মার্কিন পণ্যে আমদানিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক নিচ্ছে চীন। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য পরিচালনা প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইইউ অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করে ১৬ থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা সত্যিকার অর্থেই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। গুগল কিংবা অন্যান্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে তারা ছাড় দিচ্ছে না। তারা যেভাবে আমাদের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আচরণ করছে, তা আমরা পছন্দ করছি না।’

শুল্ক এড়াতে সময়সীমার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করার বিষয়ে আশাবাদী কানাডা ও মেক্সিকো। যদিও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুল্কারোপ কার্যকর হলে তার কড়া জবাব দিবে তার দেশ। সময়সীমা নির্ধারণে ট্রাম্পের যোগাযোগের কৌশল বলে মন্তব্য মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের। অন্যদিকে তামার ওপর শুল্কারোপ প্রত্যাহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।

মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম বলেন, ‘আমরা তার যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে জানি। যৌথ কাজের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ তার কৌশল। তবে আমরা আশাবাদী সময়সীমা শেষ হবার আগেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হতে পারবো।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘শুল্ক এড়াতে যা কিছু করা সম্ভব, তার সবকিছুই করতে প্রস্তুত আছি। তবে আমি আগেই বলেছি, কানাডার ওপর এমন অন্যায্য শুল্ক চাপিয়ে দেয়া হলে তৎক্ষণাৎই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন ও শক্ত জবাব দেয়া হবে, যেমনটা কানাডিয়ানরা মনে প্রাণে চাইছেন।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ভিক্টিম কার্ড খেলার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই অভিযোগ বিশ্লেষকদের। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করা হলে তার বোঝা মার্কিনদের টানতে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তারা।

ব্রুগেল ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো রেবেকা ক্রিস্টি বলেন, ‘ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ভিক্টিমহুডের ওপর তৈরি হয়েছে। তিনি বোঝাতে চান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের শক্তিশালী নাগরিকদের ক্ষতি করা হচ্ছে। কানাডা ও মেক্সিকোর বিষয়ে কয়েকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো। অনিশ্চয়তা তৈরির মাধ্যমে তিনি আসলে কী চান, তা বোঝা যাচ্ছে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্যের ৪০ শতাংশের বেশি হয় দেশটির ৩ বাণিজ্য অংশীদার মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের সঙ্গে, অঙ্কের হিসেবে যা ছাড়িয়ে গেছে ২ লাখ কোটি ডলার।

ইএ

BREAKING
NEWS
2