তথ্য-প্রযুক্তি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্পার্ম তিমির ভাষা জানার চেষ্টা
মানুষের মতো স্পার্ম তিমির ভাষারও নির্দিষ্ট কিছু ধ্বনি এবং বর্ণমালা আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তা ডিকোড করেছেন বিজ্ঞানীরা। তীমের শব্দে মিলেছে ছন্দ ও গতি। যার অর্থ জানতে পারলে মানুষও বুঝতে পারবে তিমির ভাষা।

বিভিন্ন প্রজাতির তিমি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের কণ্ঠস্বর বা শব্দ ব্যবহার করে। স্তন্যপায়ী সামুদ্রিক প্রাণির মধ্যে স্পার্ম তিমি খুবই সামাজিক। ৬০ ফুট দীর্ঘ দাঁতযুক্ত এই তিমির মস্তিষ্কের আকার প্রাণিকূলের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তারা গভীর সমুদ্রে চলাচল করে এবং বড় আকারের স্কুইড ও অন্যান্য মাছ শিকার করে খায়।

তারা যে শব্দের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কোডাস বলে। ন্যাচার কমিউনিকেশনস জার্নালে এবার তিমিদের যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রকাশ করেছে গবেষকরা। পূর্ব ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের স্পার্ম তিমিদের কয়েক বছরের কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি কাঠামো বের করেছেন তারা।

এমআইটি কম্পিউটার সায়েন্স ও এআই ল্যাবরেটরির অধ্যাপক জ্যাকব আন্দ্রিয়াস বলেন, 'নতুন গবেষণাটি স্পার্ম তিমির কণ্ঠস্বর নিয়ে। বিভিন্ন শব্দের কোড দিয়ে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে। কোডগুলোর মধ্যে জটিল অভ্যন্তরীণ কাঠামো আছে, যা অন্যান্য প্রাণি এমনকি মানুষের ভাষার সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়।'

গবেষকেরা মেশিন লার্নিং পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, ৬০টি তিমির শব্দকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। স্পার্ম তিমির ১৪৩টি শব্দের বর্ণকে আলাদা করে একটি বড় ডাটাসেট তৈরি করে তা নিয়ে গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা।

স্পার্ম তিমির যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যান্য তিমির চেয়ে একটু ভিন্ন ধরনের। যেমন অনেক তিমি গান, শিস, কিচিরমিচির ও বিভিন্ন কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে। এখানে শুধু তাদের শব্দগুলোর কোড সম্পর্কে গবেষণা করা হয়েছে। এর অর্থ খুঁজে বের করতে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন।

অধ্যাপক জ্যাকব আরও বলেন, 'তিমিগুলোর আচরণ ও তাদের সামাজিক গতিশীলতায় শব্দগুলো দিয়ে কি বোঝানো হয়, সে সম্পর্কে জানতে আরও অনেক তথ্য প্রয়োজন। শব্দের সঙ্গে তিমিদের আচরণগত তথ্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিমিদের ভাষা বুঝতে পারা একটি বড় অর্জন হবে।

গবেষকদের আশা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ একদিন তিমির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবে। এ ঘটনা বাস্তবে রূপ নিলে প্রথমবারের মতো অন্য কোনো প্রজাতির ভাষা বুঝতে পারবে মানুষ।

ইএ