বর্ণিল আলোয় সেজেছে দোহা। দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর উপসাগরীয় শহরটি। কারণ চলতি সপ্তাহেই কাতারের রাজধানীতে পর্দা উঠেছে ওয়েব সামিট- ২০২৫ এর।
বার্ষিক এই প্রযুক্তি সম্মেলনের এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে দেড় হাজারের বেশি স্টার্ট-আপ। পাশাপাশি রয়েছেন প্রায় ৯০টি দেশের কয়েক হাজার রাজনৈতিক, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। ধারণা করা হচ্ছে ৬ শতাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবারের আসরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ২৫ হাজার।
ফিনল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী টনি হুক্কানেন বলেন, ‘আমাদের সেবা ও ব্যবসার প্রচারের জন্য এটি বড় সুযোগ। আমরা একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের গ্রাহক রয়েছে। সম্মেলনটি এই অঞ্চলে আমাদের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবে।
এবারের সম্মেলনে ঘুরে ফিরে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ। চ্যাটজিপিটি, কো পাইলট, লামা কিংবা জেমিনির মতো এআই চ্যাটবট তৈরির মাধ্যমে এই খাতে নেতৃত্বদানকারীর ভূমিকা দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিপসিক তৈরির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে চীন। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাকি দেশগুলোও ঝুঁকছে এআইয়ের দিকে।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্বদানকারীর খেতাব পেতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। যাতে ভাগ বসাতে চায় স্বাগতিক কাতার।
চলতি সপ্তাহে সরকারি সেবায় এআই এর ব্যবহার বাড়াতে উপসাগরীয় দেশটি 'স্কেল এ আই' এর সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি করেছে। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন স্টার্ট-আপগুলোকে ফ্রি ভিসা, কর ছাড়, বিজনেস লাইসেন্স ও বিশেষ তহবিল প্রদানের মাধ্যমে দেশটিতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছে কাতার সরকার।
এআই প্রতিযোগিতায় কাতার থেকে অংশ নেয়া আহমদ আবুশাইখা বলেন, ‘তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি তৈরির চেষ্টা করছে কাতার। এবারের ওয়েব সামিটে স্টার্ট-আপ ও নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা কাতারের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে।
এবারের আসরে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন স্কেল এআই এর প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ওয়াং, টিকটক গ্লোবাল বিজনেস সলিউশনের প্রেসিডেন্ট ব্লেক চ্যান্ডলি ও হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথসহ ৩৮০ বক্তা। ২০০৯ সালে ডাবলিনে মাত্র ১৫০ জনকে নিয়ে প্রযুক্তি সম্মেলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ওয়েব সামিট। চার দিনব্যাপী এবারের আসরের পর্দা নামছে বুধবার।