দুবাইয়ে শেষ হলো পাঁচদিনের গালফুড মেলা। এবার বাংলাদেশের ৪১টি প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ পেয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ডলার। শুক্রবার মেলার শেষ দিন এই তথ্য জানায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কমার্শিয়াল উইং। গতবছর মেলায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ পেয়েছিলো প্রায় ১০ কোটি ডলারের।
বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা থাকায় এবার মেলায় অংশগ্রহণকারী ছাড়া দেশীয় বায়াররা তেমন অংশ নিতে পারেননি। এতে গতবছরের তুলনায় এবার ক্রয়াদেশ কমেছে। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত ক্রয়াদেশের বাইরেও সম্ভাব্য ক্রয়াদেশ পেয়েছে প্রায় কোটি ডলারের। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের প্যাকেজিংসহ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কারণ জানান ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান বলেন, ‘আমাদের অর্জনগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। কোভিডের পর এই বছর বেশি অর্ডার পেয়েছি।’
বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ বলেন, ‘আমরা ধাক্কা খেয়ে খেয়ে একটা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেছি পণ্যগুলো নিয়ে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্যাকেজিং এইটা আসলে ডেভেলপ করতে হবে।’
তবে এবার নতুন ছয়টি গন্তব্য যোগ হয়েছে সিটি গ্রুপের পণ্য রপ্তানির তালিকায়।
সিটি গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর লুৎফুল কবির শাহীন বলেন, ‘আমরা দুইটি পণ্যে ভালো সাড়া পেয়েছি তার মধ্যে চা। একই সাথে ৬টি নতুন দেশে আমাদের সাথে রপ্তানি কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।’
গত দুই আসরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেলায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার অভিযোগ তোলেন। এই বিষয়ে এবার মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো -ইপিবি। পরবর্তী আসরে জায়গা বাড়ানোর আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় আমরা যেটা বুঝতে পেরেছি সেখানে আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্য দরকার। প্রায় সকল স্টলে একই রকম পণ্য নিয়ে কমপ্লিট করছেন। পণ্যের বৈচিত্র্য না থাকলে ওইভাবে বড় আকারে যাওয়া কঠিন।’
গালফুডের পরবর্তী আসরে দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সঙ্গে ভেন্যু হিসেবে যোগ হবে দুবাই এক্সপো সিটি। একমাস এগিয়ে আগামী বছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে দুটি আলাদা ভেন্যু নিয়ে বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা।