ঈদের আগে চট্টগ্রাম আইসিডিতে রপ্তানি পণ্যের চাপ, দ্বিগুণ বেড়েছে ভাড়া

চট্টগ্রাম আইসিডিতে রপ্তানি পণ্যের চাপ
চট্টগ্রাম আইসিডিতে রপ্তানি পণ্যের চাপ | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদের ছুটির আগেই চট্টগ্রামের বেসরকারি আইসিডিগুলোতে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি পণ্যের চাপ বেড়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ। পরিবহন মালিকরা বলছেন, ডিপোগুলোতে চার-পাঁচ দিন গাড়ি আটকে থাকায় রপ্তানিপণ্য খালাসে দীর্ঘ সময় লাগছে। পরিবহন সংকটে ভাড়া বাড়ায় ডিপোগুলোকে দায়ী করে রপ্তানিকারকরা বলছেন, ডিপো ও ফরওয়ার্ডারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় ভোগান্তির সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

সারি সারি কাভার্ডভ্যান- কোনোটি তিন দিন আবার কোনোটি চার দিন ধরে সিরিয়ালের অপেক্ষায়। চট্টগ্রাম বন্দরের একটি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর চিত্র এটি। বাকি ১৯টি ডিপোর চিত্রও এক। ঈদের টানা ছুটির আগে একযোগে রপ্তানিপণ্য ডিপোতে পাঠানোর কারণে এই জট। চাপের কারণে ভাড়া বাড়িয়েছে পরিবহন মালিকরা। তাদের দাবি, ডিপোতে জায়গা না থাকায় রপ্তানি পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে গাড়ি আটকে থাকায় ভাড়া বেড়েছে।

ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের যে ডিপোতে গাড়িগুলো আসে, স্মুথলি যদি আনলোড হয়ে আবার চলে যেতে পারতো, তাহলে ভাড়াটা বৃদ্ধি পেতো না। যেহেতু একটা ডিপোতে চার-পাঁচ দিন গাড়ি অপেক্ষা করতে হয় আনলোডের জন্য, তাহলে গাড়িগুলো আসে ব্লক হয়ে যাচ্ছে। ব্লক হইলে মার্কেটে গাড়ি শূন্যতা। তো গাড়ি শূন্যতা হইলে তো দাম বাড়বেই স্বাভাবিক।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ১৮ হাজার থেকে ঠেকেছে ৫০ হাজারে। এজন্য ডিপোগুলোর অব্যব্স্থাপনা ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের সাথে সমন্বয় না থাকাকে দায়ী করছেন পোশাক শিল্প মালিকরা।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানগুলা যখন অফডকে যায়, অফডকে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না, তারা ঠিকমতো ওইটা নামায় না। ওইটা না নামার কারণেই মানে ট্রান্সপোর্টগুলা স্টাক আপ হয়ে যায় অফডকে। অফডকে স্টাক আপ হওয়ার কারণে যখন মার্কেটে ক্রাইসিস সৃষ্টি হয়, তখন চার-পাঁচ হাজার টাকার ভাড়া ওইটা ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে নেয়। তো এভাবে অস্বাভাবিকভাবে আসলে আমাদেরকে ভাড়া দিতে হচ্ছে। এটা ম্যানুফ্যাকচারের জন্য বিশাল একটা বোঝা।’

এদিকে গাড়ির বাড়তি চাপের সুযোগে ডিপোর স্টাফরা পণ্য খালাসে অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ চালকদের। সেই সঙ্গে পথে পথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতদের হামলা বাড়লেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানায় চালকরা।

চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঢাকা থেকে গার্মেন্টসের মাল নিয়ে আসছি, ঢুকতেছে না। টেবিল থেকে দাবি করতেছে যে আপনার দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা লাগবে, এর জন্য গাড়ি ঢুকাচ্ছে না।’

অন্য একজন বলেন, ‘রাস্তাঘাটে এখন নিরাপদ নাই। রাস্তাঘাটে লুটপাট হয়, চাঁদা দিতে হয়, ২০০ টাকা দিতে হয়, না হলে মারধর করে। ড্রাইভার একটা যে রকম নিরাপদে, এই জিনিসটা নাই।’

প্রতিদিন আইসিডি, খাতুনগঞ্জ, বন্দরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামের প্রায় ১০ হাজার কাভার্ড ভ্যান আসা-যাওয়া করে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার কাভার্ড ভ্যান আটকা পড়েছে আইসিডিগুলোতে। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ডিপোগুলোতে ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার থাকলেও বর্তমানে আছে প্রায় ১৫ হাজার টিইইউএস।

এসএস