দিন দিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ বাড়ায় ব্যাহত হচ্ছে সামগ্রিক উৎপাদন। সবকিছু ছাপিয়ে জ্বালানি এখন উৎপাদন খরচের প্রধান নির্ধারক।
জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্পে উৎপাদন, কৃষি, সেচ,সারের ব্যয় বাড়ে। ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি চাপ তৈরি হয়। যদিও দেশের জ্বালানি চাহিদার ৯৭ শতাংশই পূরণ হয় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যার ৭০ শতাংশ আমদানি নির্ভর।
দেশে বায়োগ্যাসসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের বড় সম্ভাবনা থাকলেও নীতি,পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ মাত্র ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ,এ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় প্রায় চার শতাংশ।
এরইমধ্যে খনিজ জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে পাশের অনেক দেশ । সেদিক বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। আসছে বাজেটে এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আলাদা করে বড় বরাদ্দ নেই।
আরও পড়ুন:
একজন কারখানা মালিক বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিগুলা এখন অর্ধেক দিনের বেলা সরাসরি সোলার থেকে চলে, আর রাতের বেলা এই ডেসকো থেকে অথবা আরইবি থেকে চলে।’
অন্য একজন বলেন, ‘সোলার যদি ডিউটি কম হতো, তাহলে গ্রামে এটার প্রচলন, ব্যবহার এবং চাহিদা—দুটো তিনটেই অনেক বাড়তো।’
এবার আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা এডিপির প্রায় ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে এই খাতটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক মনে করেন, নীতিগতভাবে সরকার সৌর, বায়ু ও অন্য সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজেট কাঠামোয় তার প্রতিফলন যথেষ্ট নয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এডিপি বরাদ্দ আসে সংশোধিত এবং একচুয়াল, সেখানে পাঁচ শতাংশেরও কম আসলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বরাদ্দ হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির চাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানি পিষ্ট অবস্থায়, অন্তত বাজেটের দিকে তাকালে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ, তার অন্তত ১০ শতাংশের ওপরে যেন জ্বালানি—নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য যাতে সরকার বরাদ্দ রাখেন।’
আরও পড়ুন:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আনু মোহাম্মদ জানান, শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, একলাফেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হওয়া যাবে না।
আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘সারা বিশ্বেরই ভবিষ্যৎ হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। আপনি একদিকে কয়লা বিদ্যুতের জন্য বরাদ্দ করবেন কিংবা এলএনজি আমদানি করবেন, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলবেন, দুইটা তো মিলবে না। তো সেই কারণে সামনের বাজেটে যেটা আসছে, বাজেটেও আমরা দেখতে চাই যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট একটা রোডম্যাপ।’
আর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের নীতি কাঠামোতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন নির্ভরতা বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বাড়বে। সেই বাড়ানোর জন্যে যে ধরনের প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা দরকার, সেই অনুসরণ করা হবে। আমদানি নির্ভর হলেও আমরা সেখান থেকে উৎপাদনের দিকে যেতে চাই। জ্বালানি নির্ভরতার থেকে জ্বালানি সক্ষমতায় যেতে হবে।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা ও ডিজেলের উপর নির্ভরশীলতা কমানো । যার ফলে কমবে কার্বন নিঃসরণ ও সরকারি ভর্তুকি।





