বয়কটের চাপে বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো | ছবি: সংগৃহীত
1

বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিরোধিতা আর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ ফুটবলের অংশীদারত্ব বা স্বত্ব ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে ফিফা। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসির ফিফা বয়কটের হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।

ফিফা বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করার পরিকল্পনা করলে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা ফুটবলে ঐক্যের বদলে চরম বিভাজন তৈরি করে। প্রস্তাবটি সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় চরম সমালোচনা ও তুমুল বিরোধিতা।

প্রথমে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ‘উয়েফা’ এরপর উত্তর আমেরিকার ‘কনকাকাফ’ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। তবে ইনফান্তিনোর এই মেগা ডিল গুঁড়িয়ে দেয়ার পেছনে মূল ধাক্কাটি আসে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা ‘এএফসি’-র কাছ থেকে। এএফসি সরাসরি উয়েফা ও কনকাকাফের পাশে দাঁড়িয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে, বিশ্বের ২১১টি দেশের সমর্থনে অর্ধেকের বেশি ভোট পাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায় ইনফান্তিনোর।

আরও পড়ুন:

বহিরাগত চাপের পাশাপাশি ফিফার নিজস্ব পদস্থ কর্মকর্তাদের নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। এই চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের যোগসাজশের কথেও উঠে। একইসঙ্গে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সহ ফুটবল সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি জিয়ানি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ব্যাকফুটে এসে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো স্বীকার করেন, প্রকল্পটি ফুটবলে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। তাই ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে ফিফা।

আরও পড়ুন:

বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ফিফা পিছু হটলেও, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ৬৪ দলের টুর্নামেন্টে রূপ দেয়ার নতুন পরিকল্পনার দিকে হাঁটছে সংস্থাটি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নাটকীয় পতনের পর আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর চেয়ার যে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়লো, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

এসএস