যাকাতে সম্ভাবনা থাকলেও সমন্বয়ের অভাবে মিলছে না সুফল

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

প্রতিবছরের মতো এবারও যাকাত আদায় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অনেকক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হারাচ্ছে যাকাত। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী,যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনা দ্রুত চালু করার আহ্বান জানান তারা।

কোনো ব্যক্তির প্রায় ২ লাখ টাকা একবছরে জমানো থাকলেই তার ওপর আড়াই শতাংশ হারে যাকাত ফরজ করা হয়েছে। সমাজে ধনী গরীবের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাকাতকে ইসলামে।

দেশে দরিদ্রতা নিত্যসঙ্গী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের। তাদের গল্পটা রাকিব হাসানের মতোই। কিন্তু অভাব আর বেকারত্ব ছাপিয়ে সে এখন সফল উদ্যোক্তা। কাঠ-করাতের যোগফলে ফিরেছে সচ্ছলতা। যাকাতের অর্থেই রাকিব বুনেছেন জীবনের গল্প। এখন সেই যাকাত দেন।

রাকিব হাসান বলেন, ‘প্রথমে আমি ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম, পরে দেখেশুনে ওনারা আমাকে আবার ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে এই দোকানটা দেবার জন্যে। আলহামদুলিল্লাহ আমি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি।’

রাকিবের মতো অসংখ্য গল্প সৃষ্ট করেছে যাকাত ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট বলছে, প্রতিবছর ঈদ-উল-ফিতরে ৪০ হাজার কোটি টাকার যাকাত দেয়া হয়। তবে, ব্যক্তিগত ও সমন্বয়হীনতা যাকাত আদায়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন নিম্নবিত্তরা। তাই এর প্রতিফলন বড় পরিসরে দেখা মেলে না।

সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট বলছে, সচেতনতার অভাবে এখনো দেশের বড় একটি অংশ যাকাত দেয়া থেকে বিরত থাকছেন। সামর্থ্যবান সবাই যাকাত দিলে পরিমাণ ১০০ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে বলেও জানান কর্মকর্তা।

সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যদি ঠিকমতো হিসাব করে যাকাত দেন তাহলে সেটাই যথেষ্ট। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটা হলে বিশাল সাফল্য হবে। কারণে সমাজের বিপুল পরিমানে মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। যদি আমরা যাকাতের অর্থনীতি কাজে লাগেতে পারি তাহলে নিঃসন্দেহে এই ভেদাভেদটা দূর হয়ে যাবে।আমাদের মনে রাখা দরকার এটা দয়া নয় এটা তাদের হক।’

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলছেন, সারাদেশে যাকাত তোলা ও বিতরণে সরকার সমন্বয়কের ভুমিকা পালন করলেই পরিবর্তন আসবে এই কার্যক্রমের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সরকারের ধর্ম মন্ত্রাণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামেগঞ্জের আমরা যাকাত দাতা ও গ্রহিতার তালিকা করতে পারি। এরই সঙ্গে কি কি খাতভিত্তিক আমরা মানুষকে স্বাবলম্বী করতে তারও একটা তালিকা করা যেতে পারে তাহলে প্রতি বছরই আমরাদের ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করার সুযোগ রয়েছে।’

বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, সরকারকে যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর। সরকার যাকাত আদায় করে সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছে দিলে- বদলে যাবে অর্থনীতি।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘কর ফাঁকি দেয়ার কারণে কিন্তু ব্যবসার সঠিক ব্যালেন্স শীট করা হয় না, তাই আমরা ব্যবসার সঠিক পরিস্থিতি কি জানিনা এবং কতটুকু সম্পদ আছে সেটার কিন্তু কোনো হিসাব থাকে না। তাই কর ফাঁকির দেয়ার সঙ্গে কিন্তু যাকাত ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। এগুলো সমাজে বৈষম্য তৈরি করছে। এতে করে সমাজে অর্থনৈতিক অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। আমরা দেখালাম সরকার আসার পর ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের কাজ শুরু হলো, আমরা যেন একইভাবে যাকাতটাকেও যেন নিয়ে কাজ করি। এটা যদি এখনই কাজ করা শুরু করি আমার ধারণা খুব দ্রুত আমরা ভালো ফল পাবো।’

শাড়ি কিংবা লুঙ্গিতে যাকাত না দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেই যাকাতের উদ্দেশ্য পূর্ণতা পাবে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।

এএম