Recent event

ইইউ–ভারত বাণিজ্যচুক্তিতে চাপে বাংলাদেশ; প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা

বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন পণ্য
বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন পণ্য | ছবি: এখন টিভি
0

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে। আর এতেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার প্রস্তুতি না নিলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব।

প্রায় ২০ বছর ধরে আলোচনার পর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এটি কার্যকর হলে ৯০ শতাংশ ভারতীয় পণ্য থেকে শুল্ক তুলে নেবে ইইউ। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৯৬ শতাংশ পণ্য থেকে শুল্ক নেবে না ভারত। আর এ চুক্তিকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেছেন ‘মাদার অব অল ডিলস’ বা সব চুক্তির সেরা হিসেবে।

চুক্তি বাস্তবায়ন হলে, ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারত। আর এতেই রপ্তানি প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার শঙ্কায় পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। যদিও বর্তমানে ইইউতে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।

বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘আমরা এখন ১২ পার্সেন্ট মাইনাসে। ট্যাক্স দিতে হয় না। সেখানে ভারত কিন্তু ১২ পার্সেন্ট ট্যাক্স দিয়ে ঢোকে। ২০২৭ সাল থেকে ভারত ১২ পার্সেন্ট ট্যাক্স দেবে না। ২০২৯ থেকে আমাদের দিতে হবে। তাদের হবে মাইনাস ১২ আমাদের হবে প্লাস ১২ অর্থাৎ ২৪ এর পার্থক্য হয়ে যাবে। বাংলাদেশের তো এত সক্ষমতা নেই এত ডিফারেন্স কমানোর মতো। তার মানে সব গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে তা না। আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। আমরা মনে করছি এখান থেকে আমাদের অর্ধেক রপ্তানি কমে যাবে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলারই হয়েছে ইইউর বাজারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:

অর্থনীতিবিদ বলছেন, এখনই নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বড় ধরনের বড় ধরনের চাপে পড়বে বাংলাদেশ।

সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি করে এখানে তারা ২০৩০ এর মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় প্রতিযোগিতার চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ অনেক আইটেম আছে যেখানে ভারত, ভিয়েতনাম, চীন এরা আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বদ্বিতা করে। ভারতে যেহেতু তুলা থেকে শুরু করে সবই আছে রুলস অব অরিজিন, সেটি মিট করা তাদের জন্য কোনো ব্যাপার না। সেদিক দিয়ে বড় প্রতিযোগিতায় পরিবর্তন আসছে যেটির জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক দূত লুতফে সিদ্দিকি বলেছেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

লুতফে সিদ্দিকী বলেন, ‘এ কার্যক্রম এবছর হোক বা পরের বছর হোক এএফটিএর কোনো বিকল্প নেই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এক্ষেত্রে সরকার কোনো কারণে চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে ধ্বস নামবে পোশাক রপ্তানিতে।

এফএস