কৃষি , আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্য যাচ্ছে ফরিদপুরের মধু
গুণে-মানে ভালো হওয়ায় ফরিদপুরের হরেক রকম ফুলের মধুর কদর দেশজুড়ে। তবে দেশ ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যেও যাচ্ছে এই মধু। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে মধুর চাষ। এতে মধু উৎপাদনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরাগায়নে অন্যান্য ফসলের আবাদও ভালো হচ্ছে।

একযুগ আগেও ফরিদপুরে তেমন মধুর বাজার ছিল না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন ফুল থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধুচাষ শুরু হয়েছে। যে কারণে মধুর উৎপাদনও বেড়েছে এ জেলায়। বছরের তিন থেকে চারমাস মধু সংগ্রহকারীরা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মধুর খামার তৈরি করছেন।

বছরের এই তিনমাসে মধু সংগ্রহকারীরা ৫০ টনের বেশি মধু সংগ্রহ করে থাকেন। যার বাজারমূল্য তিন কোটি টাকার বেশি।

প্রতি খামার থেকে সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহ করা হয়। যার পরিমাণ ৭ থেকে ৮ মণ। তাদের সংগ্রহ করা মধু স্থানীয় বাজার ও বড় বড় কোম্পানিগুলোতে সরবরাহ করা হয়। এতে উদ্যোক্তারাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এছাড়াও নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত মধু পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

মধু সংগ্রহকারী উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, 'মিশ্র ফুলের মধু সংগ্রহ করতে অনেকেই ফরিদপুরে আসেন। এই মধুর গুণ ও মান দুটোই ভালো। ফরিদপুর অঞ্চলের মধু মধ্যপ্রাচ্যেও যাচ্ছে।'

মধু সংগ্রহকারীরা বলেন, 'একসঙ্গে এতো ফুলের মধু আমরা আর কোথাও পাই না। ধনিয়া, কালোজিরাসহ অনেক মিশ্র ফুল এখানে চাষ হয়। যে কারণে এ মধুর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাহিদা রয়েছে। ১০০ বক্স থেকে আমরা চার মণের মতো মধু আশা করতেছি।'

কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত মধু চাষ ও সংগ্রহে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়া হয়। প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে আহরণ বাড়ছে মধুর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের এই মধু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আগামীতে মধু উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি। এটা লাভজনক হওয়ায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।'

এভিএস