রাকসুর সেমিনারে গিয়ে তোপের মুখে শিশির মনির; শিক্ষার্থীরা দেখালেন ‘লাল কার্ড’

‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত কর্মসূচি
‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত কর্মসূচি | ছবি: সংগৃহীত
0

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদের সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনিরকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ।

আজ (সোমবার, ৬ এপ্রিল) শিশির মনির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) আয়োজিত এক সেমিনারে যোগ দিতে আসলে বিকেল সাড়ে ৪টার পরে রাবির প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী প্রথম শহিদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী শিশির মনিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমণের প্রতিবাদে এ লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া তার সঙ্গে আসা ব্যারিস্টার ফুয়াদকেও ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়েছে।

এসময় রাকসুর মতো অরাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে তাদেরকে অতিথি করার নিন্দাও জানানো হয়।

এদিকে রাকসুর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ। ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’ উপেক্ষা করে সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিশির মনির।

এসময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রশ্নে সংবিধানের দোহাই দিয়ে, অজুহাত দিয়ে আমাদেরকে কাঁঠাল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এ সংবিধানের কাঁঠাল জপতে জপতে ওবায়দুল কাদেররা আজ কলকাতার আইসিইউতে রাত কাটাচ্ছে, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে, ভারতকে আজ আওয়ামী লীগের তীর্থস্থান বানাতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘যে দলের একাংশে নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আজকে সেই দলের নেতাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’

বিকেল ৫টায় রাকসু আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি-সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

এরপর প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিশিরি মনির বলেন, ‘তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, তারা সংবিধান সম্পর্কে জানে না। ৫ আগস্টের পর দেশের জনগণ কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করে না। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির সিস্টেম থেকে মুক্তি চেয়েছে। যদি মানুষকে আবারও গুম করতে না চান, তাহলে “গুম অধ্যাদেশ” আইনে রূপান্তর করতে হবে। যদি তা করতে না পারেন, তাহলে রক্তের দাম দিন, আমার মায়ের আর্তনাদ ফিরিয়ে দিন। হঠাৎ করে বিদেশ থেকে এসে পার্লামেন্টে চুপ মেরে বসে থাকবেন— এমন আচরণ কি জাতি মেনে নেবে?’

এসময় বিএনপি ক্ষমতায় এসে পল্টি মেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘অতীতে একটি ফেসবুক পোস্ট দিলে রাত ১২টায় ডিজিএফআই বাসায় হাজির হতো, এখনো তাই হচ্ছে। এর নামই ফ্যাসিবাদ। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজ যদি আবারও জেগে ওঠে, তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে কোনো উপায় থাকবে না।’

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির এবং সোমবার সকালে একই বিষয়ে মহানগর ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সেমিনারে যোগ দেন তিনি।

এসএইচ