দুর্যোগে ছুটে আসেন নেতারা, পরিস্থিতি স্বাভাবিকেই যান হারিয়ে!

দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নৌকায় তোলা হচ্ছে ত্রাণ
দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নৌকায় তোলা হচ্ছে ত্রাণ | ছবি: এখন টিভি
0

দুর্যোগ এলেই দুর্গত মানুষের পাশে ছুটে আসেন মন্ত্রী, নেতা আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা। চলে ত্রাণ বিতরণ, পরিদর্শন আর নানা আশ্বাস। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলে বদলে যায় চিত্র। বছরজুড়ে পাহাড় কাটা, নদী-খাল দখল আর অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বারবারই বাড়ছে দুর্ভোগ।

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম। পানিতে ডুবেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধেক এলাকা, খাগড়াছড়ির প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং কক্সবাজারের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়েছে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার বসতবাড়ি। এরই মধ্যে প্রাণ গেছে অর্ধশতাধিক মানুষের।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী। এসব উপজেলার বহু গ্রাম এখনো পানির নিচে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা আর ঘরবাড়ি পুনর্গঠনের চিন্তায় দিশেহারা তারা। দেরিতে হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের হিসাব ভুলে বিভিন্ন দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও ছুটে গেছে দুর্গত মানুষের পাশে। । সরকারের পক্ষ থেকেও শুরু হয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।

তবে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা বলছে, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় পুরো চিত্র। কমে আসে মানুষের আনাগোনা, থেমে যায় প্রতিশ্রুতি আর আলোচনার কেন্দ্র থেকে হারিয়ে যায় দুর্গত জনপদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের সময়ের সাময়িক তৎপরতার বিপরীতে সারা বছর এই অঞ্চলের জন্য নেই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

বন্যা দুর্গত এক স্থানীয় ব্যক্তি হতাশা প্রকাশ করে জানান, দেখে যাওয়ার পর ওনাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে তাদের আর খোঁজ থাকে না। 

এছাড়া এমপি-মন্ত্রী হওয়ার আগে নেতারা অনেক আশ্বাস দিলেও এমপি হওয়ার পর এসব এলাকার উন্নয়নে তারা আর উদ্যোগ নেয় না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

শঙ্খ, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীতে অব্যাহত বালু উত্তোলন, পাহাড় ধ্বংস আর অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে বছরের পর বছর আটকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প ও দুর্যোগ মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘এরকম অতি বৃষ্টির পর যেন দ্রুততার সঙ্গে সেই পানি নিষ্কাশন হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা একটি প্রোজেক্ট সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করবো। এই প্রোজেক্টটা যখন আমরা পুরোপুরিভাবে চালু করবো, তখন শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, চট্টগ্রাম শহরে এই জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে জরুরি। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুর্যোগ আসার আগেই যদি প্রকৃতি ধ্বংসের এই ধারাকে থামানো না যায়, তাহলে ত্রাণ নয়, প্রতিবারই অপেক্ষা করতে হবে নতুন বিপর্যয়ের জন্য।

এসএইচ