এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলমান দুর্যোগে জেলার প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট সংস্কারে আরও ১২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
এদিকে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ভেঙে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়া, পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যাওয়া এবং কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
টংকাবতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং মুরুং বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে লামা-সুয়ালক সড়কের টংকাবতি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান জেলায় এলজিইডির আওতাধীন প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপজেলা প্রকৌশলীরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করছেন এবং বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের আবেদন পাঠাব। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনঃস্থাপনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
উল্লেখ্য টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত ৭ জুলাই থেকে বান্দরবানে বন্যা দেখা দেয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।





