রাঙামাটিতে পাহাড়ধস-বন্যায় বাঘাইছড়ির পর ডুবছে বিলাইছড়ি ও বরকল

রাঙামাটির একটি গ্রাম
রাঙামাটির একটি গ্রাম | ছবি : সংগৃহীত
0

রাঙামাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতে অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় মাঝেই জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পর ডুবছে বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল।

এরই মধ্যে জেলার ৭ উপজেলায় ছোটবড় ১২৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার ৯ উপজেলায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭২৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা খাবার, শিশুখাদ্য, ঔষধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের রাঙ্গুনিয়ার শিলক এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ব্রিজ ঘাট বেইলি সেতু ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটির সঙ্গে বান্দরবান জেলার সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘সড়কটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের হওয়ায় তারাই এটি মেরামতের কাজ করবেন।’

এছাড়া বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল দুইদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাঘাইছড়িতে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় ৬ হাজার মানুষ আকস্মিক প্লাবনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। সেখানে এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।

আরও পড়ুন:

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘ফারুয়া বাজায়ে দেড় শতাধিক দোকান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জাও প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য।

এদিকে ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী উপজেলা বরকলের নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। রাঙামাটির এমপি ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন।

তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিলেও তিন দিনে খাবার পেয়েছেন মাত্র একবেলা।

জেলা প্রশাসন থেকে ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭২৩ জন আশ্রয় নেয়া ও খাবারসহ ত্রাণ সরবরাহের দাবি করা হলেও ব্যাপক লুকোচুরি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আশ্রয় নেয়া ভুক্তভোগীরা।

প্রকৃত দুর্গতদের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রাঙামাটির ২১টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন নাগরিকরা।

এফএস