ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়ারেসা, মাসে পাঁচশ টাকার বেশি খরচ করেন মোবাইল ইন্টারনেটের পেছনে। মূলত বাসার বাইরে থাকলেই নেট কেনেন তিনি। তবে ধীরগতি আর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিয়ে অভিযোগ আছে তার।
শিক্ষার্থী ওয়ারেসা বলেন, ‘যেকোনো এরিয়াতে আপনার নেট সার্ভিসের ঝামেলা হতে পারে। যেমন আমাদের ডিপার্টমেন্টেই হচ্ছে আপনার নেট সার্ভিসটা মাঝেমধ্যে ড্রপ করে, কাজ করে না।’
টু-জির হাত ধরে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয় প্রায় ২১ বছর আগে। ২০১২ তে থ্রি-জি আর ২০২১ সালে চালু হয় ফাইভ-জি সেবা। কিন্তু এতো বছরেও প্রায় সাড়ে ১১ কোটি গ্রাহকের মুঠোফোনের ইন্টারনেট নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই।
ইন্টারনেটের গতি পর্যবেক্ষণ করা বৈশ্বিক সংস্থা, ওকলা টেস্টের হিসেবে বাংলাদেশে গত জুনে মুঠোফোনে ডাউনলোড স্পিড ছিল ৩৭ দশমিক ৮৩ আর আপলোডে ১২ দশি-মিক ১৬ এমবিপিএস। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ মোবাইল ইন্টারনেট স্পিড র্যাংকিংয়ে ৮৮তম। অন্যদিকে ৬৭২ এমবিপিএস স্পিড দিয়ে একনম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর কাতার ৫৬১ এমবিপিএস স্পিড দিয়ে দ্বিতীয়। যদিও গড় হিসেবে দেশের চার প্রতিষ্ঠান ২০ থেকে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ ইন্টারনেট স্পিড দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
দেশের যে চার অপারেটর মোবাইল ইন্টারনেট সেবা দেয় তাদের মধ্যে অন্যতম রবি ও বাংলালিংক। রবি ফাইভ-জি সেবা দেয় আর বাংলালিংক ফোর-জি। রবি বলছে, ঢাকার তুলনায় তারা সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিতে পারেন না অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে, এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নকেও দায়ী করেন তিনি।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ শাহেদুল আলম বলেন, ‘সমস্যা নেই সেকথা অবশ্যই বলবো না, সমস্যা আছে। লোকালি যেসব সমস্যাগুলো আছে আমরা চেষ্টা করছি সেগুলো রিজলভ করার জন্য। আপনাকে আমি যদি বলি যে, আমরা প্রতিবছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার, প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে ইনভেস্ট করছি নেটওয়ার্ক এক্সপানশন, নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট, ক্যাপাসিটি ইনক্রিসের জন্য।’
আর বাংলালিংক বলছে, নেটওয়ার্ক শেয়ারিং অসুবিধা কিংবা তরঙ্গের চড়া দামসহ নানা সমস্যা আছে। তার মাঝেও স্পিড ঠিক রাখার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘আমার ইনডোর কাভারেজ বা ঘরের ভিতরের কাভারেজে একটু সমস্যা হয়। কারণ আমাদের লো ব্যান্ড স্পেকট্রামটা একটু কম তুলনামূলক অন্যদের তুলনায়। তো সেজন্যে আমরা যখন, যখন লো ব্যান্ড স্পেকট্রামটা কম থাকে তখন ইনডোর পেনিট্রেশনটা একটু কমে যায়। যেটার জন্য আমরা দেখছি যে আমাদের কমপ্লেইন মাঝে মাঝে আসে।’
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই মোবাইল ইন্টারনেটে গুরুত্ব দিতে হবে সরকার কে, তা না হলে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা অনেকটাই কঠিন বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।




