হাসপাতালের বেডে হামে আক্রান্ত শিশুরা; ব্যান্ড বাজিয়ে নাচলেন নার্সরা

ব্যান্ড বাজিয়ে নাচলেন নার্সরা
ব্যান্ড বাজিয়ে নাচলেন নার্সরা | ছবি: এখন টিভি
0

হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় কাঁদছে হামে আক্রান্ত শিশুরা। আর নিচে ব্যান্ডের উচ্চশব্দে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচলেন নার্সরা। আজ (মঙ্গলবার, ১২ মে) সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিশ্ব নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নার্সরা সকালে শোভাযাত্রা বের করার আগ মুহূর্তে হাসপাতালের নিচে প্রধান ফটকে ব্যান্ড পার্টির উচ্চ শব্দে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন।

যা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি এসময় সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবুল কালামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে ৮৫ শিশু। যেখানে অধিকাংশ রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ওষুধ সংকট ও স্বাস্থ্য সেবার মান এবং নার্সদের খারাপ আচরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন:

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর বাবা বলেন, ‘ছেলে হামে আক্রান্ত, হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি, সব ওষুধ কিনে নিয়ে এসেছি। তবে নার্সকে যদি বলি ছেলের ইনজেকশন লাগবে তারা রোগীর কাছে না গিয়ে রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে আসতে বলে। আমরা অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় শিশুদের নিয়ে আর নার্সরা উচ্চ শব্দে গানের তালের নাচে মগ্ন। তাও হাসপাতালের প্রধান ফটকে।’

সুনামগঞ্জ সচেতন কমিটি (সনাকের) সদস্য খলিল রহমান বলেন, ‘দিবস পালন করবে ভালো কথা তবে হাসপাতালে ভেতরের ফটকে এভাবে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নাচা নার্সদের উচিত হয়নি বলে আমি মনে করি।’

তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে একাধিক কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নার্স দিবস উদযাপন বা পালন উপলক্ষে অবশ্যই তারা আনন্দ উপভোগ করবেন। কিন্তু সময় পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে করলে সবার জন্য ভালো।’

এসএস