যমুনা নদী বেষ্টিত পাবনার বেড়া উপজেলা। এখানে চর সাফুল্লা, চর পাঁচাকোলা, চরনাগদাসহ অন্তত ২৫টি গ্রাম পদ্মা ও যমুনা নদীর কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব চরে বসবাস করেন লক্ষাধিক মানুষ। তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা।
চরগুলোতে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা। জরুরি চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় উপজেলা সদর হাসপাতালের ওপর। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ভরসা করতে হয় নৌকা বা ট্রলারের ওপর। সন্ধ্যার পর অনেক চরেই মেলে না কোনো নৌযান। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে কোনো নৌকা পাওয়া যায় না। ফোন করলেও ওইখানে নৌকা পাওয়া যায় না। অসুস্থ রোগী ইমারজেন্সিভাবে আনার দরকার হলে স্পিডবোটে পারাপারে সুবিধা হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।
২০১৩ সালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয় একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু চালু তো দূরের কথা, এক দিনের জন্যও রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে এখন এটি সম্পূর্ণ অকেজো। ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এস. এম. মিলন মাহামুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন এটা নদীতে পড়ে থাকার ফলে জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। তো বর্তমানে আমরা চেষ্টা করছি যেন একটা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় যাতে আমাদের নদীবেষ্টিত বেড়া উপজেলার চরের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পায়।’
স্বাস্থ্যসেবায় নানা উদ্যোগ থাকলেও চরবাসীর জন্য তা এখনও অধরাই। দ্রুত নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর দাবি স্থানীয়দের।




