ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন: রাজস্ব দিলেও সেবা নেই, টিকিট জালিয়াতি আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন | ছবি: এখন টিভি
0

রেলওয়ের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যেন যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। টিকিট সংকট, কালোবাজারি আর অবকাঠামোগত দুর্বলতায় জর্জরিত পূর্বাঞ্চল রেলের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। যাত্রীদের দাবি ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে নতুন ট্রেন চালু ও আসন সংখ্যা বাড়ানো।

পুরনো বগি আর দুর্বল ইঞ্জিন নিয়ে প্রতিদিন দুইবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার পথে ছুটে চলে তিতাস কমিউটার ট্রেন। সাশ্রয়ী ভাড়া হওয়ায় এই ট্রেনই ভরসা হাজারো যাত্রীর। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। অভিযোগ রয়েছে—আন্তঃনগর ট্রেনের মতো তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিটও বিক্রি হয় কালোবাজারে। ট্রেনে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এতে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে যাত্রীদের।

সড়কপথের যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে ট্রেনেই স্বাচ্ছন্দ্য খোঁজেন যাত্রীরা। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন এই স্টেশন দিয়ে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোতেই সবচেয়ে বেশি চাপ। কিন্তু যাত্রী সংখ্যার তুলনায় আসন বরাদ্দ খুবই কম। যাত্রীদের অভিযোগ—১০ দিন আগেই টিকিট শেষ হয়ে যায়। তবে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে সহজেই পাওয়া যায় কালোবাজারিদের কাছে। এদিকে স্টেশনের বিশ্রামাগারের বেহাল অবস্থাও বাড়িয়েছে দুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং বিদ্যমান ট্রেনের আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন:

যাত্রীরা জানান, যাত্রী চাপ অনুযায়ী ট্রেনের বগি কম, কোচ কম। কোচ কম হওয়ার কারণে আসনও কম। টিকেটের প্রচুর চাহিদা থাকার কারণে কিছু অসাধু ব্যক্তি কাউন্টার থেকে বা যেকোনোভাবে ম্যানেজ করে টিকেট সংগ্রহ করে এবং উচ্চ মূল্যে ব্ল্যাকে যাত্রীদের কাছে টিকেট বিক্রি করে। কাঠামোগতভাবে খুব দুর্বল, ইঞ্জিনটাও খুব দুর্বল। যার কারণে এটার যে একটা সেবামনটা জনগণ ওই সেবার মানটা যথাযথ পাচ্ছে না।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে—যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে কাজ করছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সাকির জাহান বলেন, ‘এখানকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে যে আসন সংখ্যা যেহেতু বাড়ানো যায় প্লাস আরেকটি কমিউটার ট্রেন দেয়া যায়, বিজয় ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে এখানকার লোকজন। তো আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি, কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন এই বিষয়ে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী ১৪টি আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেন যাত্রাবিরতি করে। প্রতি মাসে টিকিট বিক্রি থেকে রেলের আয় হয় এক কোটিরও বেশি টাকা।

ইএ