নদী ভাঙনে বিলীন দেওয়ানগঞ্জের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি

যমুনা নদী ভাঙনের দৃশ্য | ছবি: এখন টিভি
0

যমুনা নদীর বাম তীরে ভাঙনের খবর নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। এবার অসময়ের তীব্র ভাঙনে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়াও এলজিইডি’র সদ্য সংস্কার করা প্রায় দুইশ মিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়ি, চর মাগুরিহাট, খানপাড়া, চর ডাকাতিয়াপাড়া ও মাঝিপাড়াসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম এরই মধ্যে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাই যমুনার এ করাল গ্রাস এখন নতুন কিছু নয় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে।

বাসিন্দারা জানান, রাস্তা, ঘাট, ফসলি জমিসহ যা কিছু ছিলো সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আম্পান প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকাজানী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চর মাগুরিহাট হয়ে খোলাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক সংস্কার করা হয়। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ করে এলজিইডির কাছে রাস্তা বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টার্নিং পয়েন্ট জামালপুর। কিন্তু অসময়ের ভাঙনে খোলাবাড়ি পয়েন্টে সদ্য সংস্কার করা প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

আরও পড়ুন:

জামালপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তাদের স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ হলে, আমরা আমাদের রাস্তার অংশের কাজ শুরু করবো।’

চলতি বছরের গত দুই মাস ধরে উপজেলার খোলাবাড়ি থেকে চর ডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে অবশিষ্ট বসতভিটা, একটি মসজিদ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘চর ডাকাতিয়ায় আমরা অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি।’

নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেক পরিবার। কেউ কেউ রাস্তার পাশে অস্থায়ী দু’চালা ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। ফসলি জমি হারিয়ে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

জেআর