প্রায় ৩ হাজার একর এলাকায় গড়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান বাজার দর অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা। রহস্যময় এ জায়গায় গেল কয়েক দশকেও প্রবেশ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন কিংবা বাইরের কোন মানুষ।
ঢোকার পথ থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা আর পাহারাদারদের নজরদারি। অবশেষে অভিযানের সুযোগে সোমবার সবার সামনে আসে রহস্যময় এ জায়গার বর্তমান চিত্র।
জঙ্গল সলিমপুরে ঢোকার পথ খুবই সীমিত। বাইজিদ লিঙ্ক রোডের পাশ দিয়ে একটি সড়ক ঢুকে গেছে ভেতরে। দুইপাশের পাহাড়ের মাঝখান দিয়েই চলে গেছে আরসিসি ঢালাই করা সড়ক। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। ক্ষমতার পালাবদলে যেগুলোর দখলও পরিবর্তন হয়। আছে দোকানপাট। সড়কের দু’ধারে বাজারও।
কিছুদূর ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আছে মসজিদ। মূল সড়ক থেকে কোথাও কোথাও পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে সড়ক। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে পাকা-আধপাকা, কিংবা কাঁচা ঘর। এক সময় এখানে কাঠাপ্রতি জমি বিশ হাজারে বিক্রি হলেও এখন অবস্থান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকায়।
ভূমির বাইরেও হাট-বাজার, দোকান, পানি কিংবা বিদ্যুৎ সবকিছুরই রয়েছে আলাদা ব্যবসা। তাই এসবের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ। যারা প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। এবার তাই যৌথ বাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে পুলিশের ক্যাম্প থাকলে তাদের জন্য নিরাপদ হবে। বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে বাসিন্দাদের ওপর জুলুম করেছে। তাই তাদের প্রত্যাশা তাদের আর এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
আরও পড়ুন:
এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে এখানকার সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। সিএনজিচালক, দোকানি, ভবঘুরে থেকে শুরু করে সবাই তাদের সোর্স। ফলে এলাকায় কারা ঢুকছে, কারা বের হচ্ছে সব খবর থাকে তাদের নখদর্পণে। কেবল সলিমপুরই নয়, দুর্গম এলাকা হওয়ায় অন্য এলাকার সন্ত্রাসীরাও গোপনে গা ঢাকা দেয় এখানে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, ‘এখানে তাদের সোর্স বিভিন্নভাবে কাজ করছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তাদের লোক রাখা আছে যাতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশ করতে না পারে। তাদের নিজেদের মতো করে এ এলাকা গড়ে তুলেছে।’
সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার সদস্য অভিযান চালালেও উল্লেখযোগ্য কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে সরকারি জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেয়াকেই আপাতত সাফল্য বলছে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, তাদের জানা মতে ১০ থেকে ১৫ স্টেট আছে, এটি আরও বেশি হবে। তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘সমন্নিতভাবে এ অভিযান পরিচালিত হলো, এখানে সরকারের কর্তৃত্বের সমস্যা ছিলো, সেটি দূর হয়েছে। সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
অঞ্চলটিতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে গেল ১৬ মাসে র্যাব সদস্যসহ অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন।




