Recent event

পাবনায় হুমকির মুখে আকাশকলি দাসের পাখির রাজ্য

পাবনায় হুমকির মুখে আকাশকলি দাসের পাখির রাজ্য
পাবনায় হুমকির মুখে আকাশকলি দাসের পাখির রাজ্য | ছবি: এখন টিভি
0

পাবনার বেড়ায় পাখিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আকাশকলি দাস। নিজ বসতবাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন পাখিদের অভয়াশ্রম। তবে অভিযোগ উঠেছে, জমি দখলে নিয়ে নির্বিচারে গাছ কাটার পাশাপাশি ধ্বংস করা হচ্ছে পাখিদের সেই অভয়াশ্রম। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অনৈতিক উপায়ে এমন অপকর্ম করা হয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের।

‘মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার মরদেহ বাড়ির ওপরই থাকবে, তবে পাখির অভয়াশ্রম আর থাকবে না। এক জমিরই হয়তো ছয়খানা দলিল বের করে বলবে, এই যে আমাকে দিয়ে গেছে।’ মৃত্যুর আগে এমন আশঙ্কার কথাই বলেছেন পাখিবন্ধু আকাশকলি দাস।

পাবনার বেড়ার কৈটোলায় কাগেশ্বরী নদীর তীরে বসতবাড়ির প্রায় ছয় বিঘা জমিতে পাখিদের অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন আকাশকলি দাশ। গত বছরের ১৮ আগস্ট তার মৃত্যুর পর স্থানীয় অসিত ঘোষ ও মোহাম্মদ আলী, দান ও ক্রয়সূত্র দাবিতে অভয়াশ্রম দখল নেন। দুজনের দাবি, আকাশকলি তাদের জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। তবে, দলিলের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই আকাশকলি দাসের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্বাক্ষরের।

আরও পড়ুন:

অভয়াশ্রমের মালিকানা দাবিদার অসিত ঘোষ বলেন, ‘সব কিছু উনি বিক্রি করে দিয়ে গেছেন আমার কাছে। তার আর এক শতাংশ জমি তার নামে নেই।’

এ অভয়াশ্রম রক্ষায় পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘পাখির অভয়আশ্রমের জন্য উনি যা করে গেলেন, তা আমাদের সবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটাকে সংরক্ষণ করা।’

তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

পাবনা বেড়া উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী বলেন, ‘তার নিজের নামেই জমি রেজিস্ট্রি করা ছিলো এবং আমি নিজেই তার বক্তব্য নিয়েছি। উনি নিজে বলেছে জমি হ্যান্ডওভার করছি।’

এদিকে, পাবনা জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, ‘আকাশকলি দাশ একটি পাখির অভাশ্রম তৈরি করেছেন। আর এ অভাশ্রম পাখির আবাসস্থল ছিলো। কোনো ব্যাক্তি যদি এ আবাসস্থলটি দখলে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা সরকারে পৃষ্ঠপোষকতায় পাখিদের আবাসস্থল টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবো।’

মৎস্য অধিদপ্তরের ‘ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট’ বাড়িটিকে পাখি অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। ব্যক্তিপর্যায়ে দেশের প্রথম ও একমাত্র অভয়াশ্রম তৈরির স্বীকৃতিতে আকাশকলিকে দেয়া হয় সরকারের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন’সহ দেশি-বিদেশি সম্মাননা।

জেআর