ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এতে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ খাতে। কারণ সমুদ্রপথে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের চার ভাগের এক অংশ আসে হরমুজ প্রণালি হয়। আর এশিয়ার বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয় এই রুট দিয়ে।
ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়া অন্যতম দেশ কাতার। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গেল আগস্ট মাসে দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কমেছে ৯৬ শতাংশ। এমন অবস্থায়, আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতারএনার্জি।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিসের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছে। অথচ গেল বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯।
একই কারণে একই কারণে ইতালির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি এডিসনকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে কাতার। এছাড়া ইতালিতে আরও ছয়টি এলএনজি কার্গো সরবরাহ বাতিল করছে কাতারএনার্জি।
শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়। ইউরোপীয় কমিশন বলছে, চলতি বছরের শেষদিকে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মধ্যপ্রাচ্যের এলএনজির ওপরও তাদের নির্ভরতা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়বে গ্যাসের দাম।




