হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনীতিতে নতুন তৎপরতা, শর্তের তালিকা করবে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করছে জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করছে জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালিটি পুনরায় খুলে দিতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তার একটি তালিকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। আজ (শুক্রবার, ২৮ আগস্ট) ইরান সফরে গিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে গিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়ার পর কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার ইরানের প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

এরপর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালি খুলে দেয়ার শর্তের একটি তালিকা তৈরি করছে ইরান।

আল-মানার টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি পথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়েছে। পথটির কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে জাহাজগুলো নির্ধারিত একটি কেন্দ্রীয় পথে চলাচল করতে পারবে।

এর আগে ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়গুলো ছিল। এসব শর্ত এবার পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দেয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে ইরানের নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে ওই সমঝোতা দ্রুত ভেঙে যায়। চুক্তি সইয়ের তিন সপ্তাহ পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।

বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, প্রণালিতে নৌ চলাচল পরিচালনা ও এর আয় ভাগাভাগির বিষয়ে ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দুই দেশ এখনো চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক নৌপথ খোলা রয়েছে এবং অগ্রগতি হচ্ছে।’ তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় প্রায় ৭৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

তবে ইরানের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এখনো প্রণালিটি এড়িয়ে চলছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পথে নৌ চলাচল নেমে এসেছে প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ৭০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

এএম