জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জাতিসংঘকে সবচেয়ে নেতিবাচক চোখে দেখেন ইসরাইলিরা। দেশটির মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ জাতিসংঘের কাজকর্মকে সমর্থন করেন। গাজায় রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের পর থেকে ইসরাইল সরকার প্রতিনিয়ত জাতিসংঘের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, সংস্থাটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন নীতি থেকে সরে এসে ইসরাইলকে নিশানা বানাচ্ছে।
অন্যদিকে আমেরিকানদের বড় অংশও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ, মানবাধিকার রক্ষা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো জাতিসংঘের পাঁচটি মূল লক্ষ্যের প্রতিটির ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান মনে করেন যে সংস্থাটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমেরিকানদের মাঝে জাতিসংঘের প্রতি এই অসন্তোষ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাইরে বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা বেশ ইতিবাচক। বিশ্বের সামগ্রিক বিচারে জাতিসংঘের পক্ষে গড় সমর্থন ৫০ শতাংশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোতে সংস্থাটির সবচেয়ে বেশি সমর্থন রয়েছে। জরিপ পরিচালনা করা ৬৭টি দেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ জাতিসংঘের কার্যক্রমকে সমর্থন করেন।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। গ্যালাপের বিশ্লেষক জুলি রে জানান, নতুন যিনি মহাসচিব হবেন, তাকে বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের এই চরম বৈপরীত্যপূর্ণ ভাবমূর্তি এবং নিরাপত্তা পরিষদের অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ সামলেই কাজ করতে হবে।





