রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, কাস্টমসে ১৭০২ মামলা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
0

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চার লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, কাস্টমস সংক্রান্ত কর ফাঁকির দায়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭০২টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯২টি মামলা।

আজ (রোববার, ১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরেন।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হয়েছে।

কর ফাঁকি রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, কাস্টমস সংক্রান্ত কর ফাঁকির দায়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া জোরদারের মাধ্যমে এরই মধ্যেই কাস্টমস সংক্রান্ত ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ভবিষ্যতে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব বাড়াতে মূলত দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর ছাড় বা ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার যথাসম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও বকেয়া আদায়ে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ঝুলে থাকা মামলা ও বকেয়া নিষ্পত্তি, নিলাম প্রক্রিয়া গতিশীল করা, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিষ্পন্ন চালান দ্রুত খালাস এবং ডেফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খাতভিত্তিক শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রজ্ঞাপন পর্যায়ক্রমে বাতিল করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড-ভিত্তিক কাস্টমস কার্যক্রম, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং এবং স্বয়ংক্রিং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং বিলাসী পণ্য ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-কর হার বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে।’

এফএস