ইউক্রেনীয় পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ভ্যানের চারপাশে থাকা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছে। ওই ভ্যানটি রাস্তার অস্থায়ী দোকান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরে লোকটি গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন বিক্রেতা। তিনি হামলায় বেঁচে গেলেও আতঙ্কজনিত সমস্যা ও বিস্ফোরণের ধাতব টুকরার আঘাতে আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভবন, সড়কের বিন্যাস ও গাছপালার সঙ্গে স্যাটেলাইট ও পুরোনো ছবির মিলিয়ে ভিডিওটির স্থান যাচাই করেছে। তবে ঘটনার সঠিক তারিখ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউক্রেনীয় পুলিশ ও সিবিহা জানিয়েছেন, ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে।
টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, ‘খেরসনে এই বর্বর রুশ যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক নিন্দা ও বিচার প্রয়োজন।’ তিনি দাবি করেন, এমন হাজারো ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে আসে না।
তিনি আরও বলেন, ড্রোন পরিচালনাকারী ব্যক্তি জানতেন যে তিনি একজন বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করছেন। তাকে ‘নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সিবিহা ইউক্রেনের জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমি এলাকায় রাতের রুশ গাইডেড বোমা হামলায় দুই শিশু ও এক বয়স্ক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ হরিহোরভ।
জাতিসংঘের ইউক্রেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে ১ হাজার ৩৯৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭ হাজার ৯৭৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘ বলেছে, সামনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরের শহরগুলোতে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে রাশিয়াও অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। রাশিয়া সোমবার কৃষ্ণসাগরীয় পর্যটন শহর গেলেনঝিকে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জন্য অভিযুক্ত করেছে। ওই ঘটনায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উভয় দেশই অস্বীকার করে আসছে।





