নেতানিয়াহুর বক্তব্য ‘মিথ্যা ও বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা’, বলছেন লেবাননের বিশ্লেষকরা

ইসরাইলি প্রাইম মিনিস্টার বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর
ইসরাইলি প্রাইম মিনিস্টার বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর | ছবি: সংগৃহীত
0

লেবাননের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রামগুলো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি নাকচ করে দিয়েছে। নেতানিয়াহু ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, লেবাননের কিছু খ্রিষ্টান গ্রাম ইসরাইলের সাথে যুক্ত হতে চেয়েছে। কিন্তু লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি খ্রিষ্টান গ্রামের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

লেবাননের বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা। বৈরুতের সেইন্ট জোসেফ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক করিম এমিল বিতার আল জাজিরাকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর বক্তব্য তার নিষ্ঠুরতা ও প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাচার প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ লেবাননের প্রতিটি শহরের মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এই বক্তব্যে কোনো সত্যতা নেই।’ তিনি একে ‘ডিভাইড অ্যান্ড কনকার’ কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য, ইসরাইল বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৬ শতাংশ ভূমি দখল করে রেখেছে, যদিও সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তাদের কোনো আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। এতে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের।

লেবাননের রাজনীতি ধর্মীয় ভাগাভাগির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সেখানে ম্যারোনাইট খ্রিষ্টান প্রেসিডেন্ট, সুন্নি মুসলিম প্রধানমন্ত্রী ও শিয়া মুসলিম স্পিকার রয়েছেন। সংসদ ও মন্ত্রিসভার পদেও ধর্মীয় কোটা বিদ্যমান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু লেবাননের এই ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

লেবাননের অর্থোডক্স খ্রিষ্টান সাংসদ মেলহেম খালাফ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নেতানিয়াহু খ্রিষ্টানদের পক্ষে কথা বলার অধিকার রাখেন না।’ আরমাইশ পৌরসভার প্রধান হান্না আল-আমিল লে-ওরিয়াঁ-লে-জুরকে বলেন, ‘দক্ষিণের কোনো গ্রামই এ ধরনের কোনো আবেদন করেনি।’

লেবানিজ-আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাদ মেলকির জরিপে দেখা গেছে, লেবাননের ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে শত্রু মনে করে। যদিও হিজবুল্লাহর ভূমিকা ও অস্ত্রের বিষয়ে দেশটিতে মতপার্থক্য রয়েছে, ইসরাইলবিরোধী মনোভাবে ঐক্য রয়েছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে।

এএম