ফিলিস্তিন থেকে হরমুজ প্রণালি; যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের একগুচ্ছ দাবি

তেহরানের একটি সড়কে যানবাহন চলাচল করছে
তেহরানের একটি সড়কে যানবাহন চলাচল করছে | ছবি: রয়টার্স
0

গত সপ্তাহান্তের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দোহায় মঙ্গলবার বৈঠকের কথা জানালেও তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনায় ইরান তাদের প্রধান তিনটি এজেন্ডা—হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দ করা তহবিল ফেরত এবং লেবানন ইস্যুকে সামনে রাখতে চায়। আল জাজিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাজি হয়েছিল। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই জলপথের ব্যবস্থাপনায় অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ তারা বরদাশত করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটটিকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে। ইরান এই পথে চলা জাহাজগুলোর ওপর বিমা ও পরিবেশগত মাশুল আরোপের পরিকল্পনা করলেও ওয়াশিংটন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের জন্য অন্যতম বড় দাবি হলো বিদেশে জব্দ থাকা নিজস্ব তহবিল ফেরত পাওয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা) ফেরত পাওয়ার আশা করছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অর্থ দিয়ে ইরান কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক সহায়তা সামগ্রী কিনতে পারবে; তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আব্দুল নাসের হেমমাতি বলেছেন, চুক্তির ভাষা অনুযায়ী ইরান এই অর্থ যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহারের স্বাধীনতা চায়।

লেবানন ইস্যুটিও তেহরানের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা। কিন্তু সম্প্রতি লেবানন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা একটি চুক্তিতে ইসরাইলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ইরান ক্ষুব্ধ। হিজবুল্লাহও এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান চায় লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহার এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তারা আগে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি চায়। তবে ইরানের শক্তিশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর অধিকাংশ সদস্য সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা না পেরোনোর জন্য সমঝোতাকারীদের সতর্ক করেছেন। তারা পারমাণবিক অধিকার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ইসরাইলি হামলায় নিহত নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়ে কোনো আপস না করার দাবি জানিয়েছেন।

এএম