সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে অবৈধ বলেছেন। আমরা তাকে বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও অবৈধ।’
তিনি বলেন, ‘গণভোট সাংবিধানিক না অসাংবিধানিক এই লেখা দেখাইতে আসবেন। ১৭ বছর এই খেলা দেখাইতে গিয়ে একজনও সাহস করে দেশে ঢুকতে পারেন নাই। দেশের প্রয়োজনে মানুষের প্রয়োজনে সংবিধান হয়। জনগণ ও দেশের ওপরে কোনো সংবিধান হতে পারে না। ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দেয়ার পর আপনি গণভোটকে অবৈধ বলার স্পর্ধা দেখাইতে পারেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ইসলামী ব্যাংকে আবারও এস আলমকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা নুরুল হক নূর ও জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর লোভে বিবেক বিক্রি করে দলীয় চাটুকারে পরিণত হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বিএনপির অবস্থা এতটাই খারাপ যে রাশেদের মতো মিথ্যুক ও গুজব মেশিনকে তারেক রহমান সহকারী বানিয়েছে। বিএনপির এখন একটাই নীতি, সবার আগে বিএনপি। যেসব সরকারি কর্মকর্তা, বিচারক, পুলিশ এখনো আওয়ামী লীগের দালালি করছে এরপরের অভ্যুত্থান হবে তাদের বিরুদ্ধে।’
এসময় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ বরাবরই উন্নয়নে পিছিয়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের সন্তান হলেও তিনি ভিটে মাটি ভুলে গেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, জুলাই চেতনা দিয়ে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না। তবে জিয়াউর রহমানের চেতনা দিয়ে অনেক দিন করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ছেলেকে বসিয়েছে ক্রিকেট বোর্ডে। কক্সবাজারে মাছের ঘের দখল করে নেয়া হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন নিয়ে মুখে কুলুপ দিয়ে বসে আছে। সম্প্রতি ইয়াবার বড় চালান ধরা পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার থাকা গাড়িতে।’
আরও পড়ুন:
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘তারা অনেক কার্ড চালু করেছে। আমরা জুলাইয়ের গাদ্দার কার্ড চালু করবো। ছাত্রদলের জন্য টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজ কার্ড, যুবদলকে দেয়া হবে সন্ত্রাসী কার্ড, বিএনপিকে দেয়া হবে ভারতীয় দালাল কার্ড।’
এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ‘যেখানে মন্ত্রী আছে সেখানেই বাজেট যাচ্ছে। অথচ পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের জন্য বাজেট বাড়ানোর দরকার ছিলো। চুপ্পুকে রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন এটা কোন ধরনের আওয়ামী জুলাই সনদ। বিএনপি স্থানীয় সরকারে দলের লোকজনকে নিয়োগ করে জনগণের টাকা মেরে খাওয়ার প্লান করছে।’
এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সাংসদ আখতার হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরে কার্যত বাংলাদেশ সংবিধান থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো সরকার ছিলো না। এই সময়টিকে কোন ধারায় ব্যাখ্যা করবেন। সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার করার বিধান ছিলো না এটার কি ব্যাখ্যা দিবেন।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন এক সংবিধানের যাত্রার কথা বলেছিলাম। সেই যাত্রায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। এতগুলো মানুষ গণভোটে রায় দিলেও সেটি খারিজ করে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এটা ভুলে যাবে না। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে অন্য সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হবে।’




