বেইজিংয়ের পূর্বাঞ্চলীয় পিংগু জেলার শিফোসি বিমানঘাঁটিতে গাড়িটি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সিআইটিআইসি টাওয়ারে আঘাত হানা উড়োজাহাজটি ওই ঘাঁটি থেকেই উড্ডয়ন করেছিল। গত শুক্রবার বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক এলাকার ওই সুউচ্চ ভবনে উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ার পর ধ্বংসাবশেষ আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ও রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ১০৮ তলার এই ভবনটি ‘চায়না জুন’ নামেও পরিচিত, যা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দপ্তর।
শিফোসি বিমানঘাঁটিতে একটি কালো রঙের এসইউভি গাড়িতে তল্লাশি চালাতে দেখেন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদক। বিমানঘাঁটিটি ইস্টার্ন পায়োনিয়ার ফ্লাইং স্কুলের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি এই স্কুলেরই ছিল। ব্যক্তিগত ডেটাবেজ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গাড়িটি লিউ জুনহুয়া নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই ব্যক্তির নাম ছড়িয়ে পড়েছে।
ইন্টারনেট অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই নামের এক ব্যক্তি সিআইটিআইসি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান চায়না সিআইটিআইসি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তার বা ওই গাড়ির সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিআইটিআইসি গ্রুপ ও সিআইটিআইসি ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
শনিবার সকালে সিআইটিআইসি টাওয়ারের আশপাশের এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছিল। ৫২৮ মিটার উঁচু ওই ভবনের পূর্ব পাশে উড়োজাহাজের আঘাতের চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চীনে সাধারণত আকাশপথে চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় এ ধরনের ঘটনা বিরল। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এ নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি এবং ইন্টারনেট থেকে দুর্ঘটনার ছবি বা তথ্য সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি সানওয়ার্ড অরোরা এসএ৬০এল মডেলের ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটির ধ্বংসাবশেষে ‘বি-১২পিপি’ নিবন্ধন নম্বর দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে উড়োজাহাজটি ইস্টার্ন পায়োনিয়ার ফ্লাইং স্কুলের মালিকানাধীন।





