৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরির পরও ইরানে বিমান হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি ড্রোনের হামলার জেরে এই হামলার দাবি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের। লক্ষ্যবস্তু করা হয় দেশটির সিরিক বন্দরের কাছাকাছি থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোর ওপর।
এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। তেহরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যে তাদের দেশে মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের সামিল। আর তাই অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবিও করছে আইআরজিসি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় ওয়াশিংটন তেহরানের উত্তেজনার পারদ ফের বাড়ছে। ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে পাল্টা দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সহিংসতার জবাব সহিংসতার মধ্য দিয়েই দেয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এছাড়া ইরানকে কী পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে এবং যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে কি-না; সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গতকাল তারা একটি জাহাজে গুলি চালিয়েছে, তা আমার পছন্দ হয়নি। আমরা তিনটি হামলা প্রতিহত করেছি। মিত্রপক্ষের জাহাজ না হলেও, এটি খুব দামি একটি জাহাজ ছিলো। কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। সুতরাং কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, আপনারা খুব শিগগিরই জানতে পারবেন।’
এদিকে ইরানে হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দোষারোপের খেলা এখন আর কাজ করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। এমনকি এর মধ্য দিয়ে আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির নীতির প্রতি ট্রাম্পের দায়বদ্ধতা না থাকার প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে বলেও বিবেচনায় নিয়েছে তেহরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের অধীনে শত্রুতা অবসানে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি রোডম্যাপও তৈরি হয়। এর আওতায় ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি বা টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে সম্মত হয় ইরান। এরমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।





