হায় হোসেন, হায় হোসেন ধ্বনিতে কাঁপছে কারবালা। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে হিজরি মহরম মাসের ১০ তারিখ কারবালার এই প্রান্তরে নির্মম হত্যার শিকার হন নবীকরীম হযরত মুহাম্মদ -এর দোহিত্র ইমাম হোসেন। তার প্রতি জুলুমের প্রতিবাদ ও শোক জানিয়ে প্রতিবছর দিনটি পালন করেন শিয়া মুসলিমরা।
বৃহস্পতিবার ইমাম হোসেনের মাজার জিয়ারতে কারবালায় জড়ো হন লাখ লাখ মানুষ। গায়ে কালো পোশাক ও কণ্ঠে শোকের মাতম। ইমাম হোসের প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন শিয়া মুসলিমরা।
আশুরা পালন করেছেন শিয়া অধ্যুষিত সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইরান। ঐতিহ্য মেনে তেহরানের রাস্তায় তাবু পুড়িয়ে ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দিনটি উদযাপন করেন তারা।
তবে ইরানবাসীর জন্য এবারের আশুরায় ভিন্ন আবহ দেখা যাচ্ছে। দেশটির প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি কোনভাবেই যেন মেনে নিতে পারছে না তারা। তাই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে শর্ত পালনে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় না দেয়ার আহ্বান সাধারণ জনগণের।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘শর্ত পালনে সরকারের পিছু হটা উচিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘ট্রাম্প প্রতিদিন কোনো না কোনো নতুন শর্ত নিয়ে হাজির হচ্ছেন। শত্রুপক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সমঝোতা করা হবে না।’
সাধারণ জনগণের একজন বলেন, ‘শত্রুপক্ষের সঙ্গে কোনো আপোষ নয়। তারা আমাদের ওপর কোনো দয়া দেখায়নি। মিনাবে স্কুলে হামলা করেছে তারা।’
ইয়েমেন
ইয়েমেনের সানায় আশুরা পালন করেছেন হাজারো শিয়া মুসলিম। সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তারা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ইমাম হোসেন ও তার পরিবার যেভাবে সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালন করেছে ও শত্রুপক্ষের সঙ্গে আপোষ করেনি। সেই শিক্ষা থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’
ইরান, ইরাক, ইয়েমন ছাড়াও লেবাননসহ বিশ্বের দেশে দেশে পালন করা হচ্ছে পবিত্র আশুরা।




