যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে তেল নিরাপত্তায় জোর ইরাকের

ইরাকের তেল অঞ্চল
ইরাকের তেল অঞ্চল | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে নিজেদের তেল ভাণ্ডারের নিরাপত্তা জোরদারে তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কিন মিত্র ইরাক। ওয়াশিংটন-তেহরানের সমঝোতা চুক্তি সই হতেই অর্থনীতির গতি বাড়াতে মরিয়া দেশটি। এ আওতায় বিদেশি তেল উত্তোলন কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি তেল মজুত থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বসরায় দিনরাত টহল দিচ্ছে পুলিশ। ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি।

ধীরে ধীরে সামনে আসছে তেল সমৃদ্ধ মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়-ক্ষতির চিত্র। এরই মধ্যে ইরাক অন্যতম। যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের পাল্টা হামলায় ভেঙে পড়েছে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো।

এ অবস্থায় নিজেদের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা জোরদার করছে ইরাক। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বসরার তেল ভাণ্ডারগুলোয় দিনরাত টহল দিচ্ছেন জ্বালানি নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা। নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল ক্যামেরা, ড্রোনসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তেলসমৃদ্ধ এ অঞ্চলটির দক্ষিণে কুয়েত এবং পূর্বে ইরান অবস্থিত। সমুদ্রপথে ইরাকের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ শহর বসরা।

ইরাকের জ্বালানি পুলিশ অধিদপ্তরের গণমাধ্যম ও সম্পর্ক বিভাগ পরিচালক কর্নেল সিনান নাজম আবদুল্লাহ বলেন, ‘নজরদারি ও পর্যবেক্ষণে থার্মাল ক্যামেরা, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো মানুষের শ্রমের বোঝা কমাতে এবং কর্মদক্ষতা-নিরাপত্তার পরিধি বাড়াতে অবদান রাখবে। জ্বালানি স্থাপনা এবং জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আমরা এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

বসরা প্রদেশে কর্মরত বিদেশি তেল উত্তোলন কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরাক।

ইরাক বসরা প্রদেশ নিরাপত্তা কমিটির প্রধান আকিল আল-ফ্রেইজি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় যেসব গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিকে হুমকি দেয়া হয়েছিল বা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তাদের সবার সঙ্গেই নিরাপত্তা বাহিনী ছিলো। অর্থনীতির স্বার্থে আমাদের কাজ, অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ দক্ষতা দিয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দেখলে বসরা প্রদেশে থাকা বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো নির্ভয়ে তেল উত্তোলন করতে পারবে।’

বিশ্বে অপরিশোধিত তেল মজুতের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইরাক। দেশটিতে তেল মজুতের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল। যা বিশ্বের মোট তেলের মজুতের প্রায় ৮ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ। ইরাকের সবচেয়ে বেশি তেল মজুত রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বসরায়। যা দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কারণ ইরাকের রাজস্ব আয়ের প্রায় ৯০ ভাগই আসে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে। ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ইরাক।

জেআর