এদিকে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমেছে। আগামী সোমবার ডব্লিউটিআইয়ের জুলাই মাসের ফ্রন্ট-মাস চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবোঝাই সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি জাহাজসহ আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর পরই উভয় বেঞ্চমার্কের দাম গত মার্চের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে ছাড়া হবে। এতে ইরানি তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয়া হবে, যা সরবরাহ আরও বাড়াবে। কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সত্যিই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না, তার শক্ত প্রমাণ পাওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে অপেক্ষা করছেন।’
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বহাল থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদনকারী দেশগুলোও রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে জারি করা সব ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশ তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেয়া হয়েছে। ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানান, তাদের তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন শুরুর জন্য প্রস্তুত।
তবে ইসরাইল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজারের জন্য আরও একটি উদ্বেগের খবর হলো, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের সফর বাতিল করেছেন। ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, ‘এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও শুরুর বিষয়ে বাজারকে কোনো আস্থা দিতে পারছে না।’





