ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন আয়োজনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই চুক্তির বিষয়ে সম্মতি হলো ইরান। তবে পূর্ণাঙ্গ খসড়াটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে বহুল প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশ্বনেতারা। এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণাও বেশকিছু দেশ।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে বড় বাধা ছিল ইসরাইল। লেবাননে অব্যাহত হামলার কারণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে জটিল প্রকৃতির মানুষ বলেও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার নেতানিয়াহুর কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দুই ঘণ্টাও টিকতো না ইসরাইল।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতাকে কৌশলগত বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প এবং তার মিত্ররা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশংসার বন্যায় ভাসাচ্ছেন রিপাবলিকানরা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করলো মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এমন অবিশ্বাস্য সাহস, অসাধারণ শক্তি, অতুলনীয় রসবোধ এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকা এমন একজন নেতা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভাগ্যবান।
আরও পড়ুন:
বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্তিচুক্তির প্রধান প্রণেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা। তাদের মতে, ২০১৫ সালের চেয়ে এখনকার চুক্তিটি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও বেশি সীমাবদ্ধতা আরোপ হবে। এমনকি ২০১৮ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে হওয়া চুক্তি থেকেও এটি বেশ কার্যকর হবে।
তবে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাদের অভিযোগ, সমঝোতা স্মারকে কোন কোন প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়গুলো সবার সামনে প্রকাশ করা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধ রাখতে সম্মত কিনা তাও স্পষ্ট নয়। ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন প্রায় ৪ মাসের যুদ্ধে মার্কিন স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকটি ইরানের কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ দলিল বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সেথ মল্টন। আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকসের মতে, ট্রাম্পের ইচ্ছাকৃত এই যুদ্ধটি ছিল ভ্রান্ত এবং মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। তার মতে, এতে করে মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয়নি, বরং রাজনৈতিক কৌশল আদায় করেছেন ট্রাম্প।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, পদক্ষেপগুলো তাৎক্ষণিক হবে না। নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণ হলেই কেবল তা কার্যকর হবে।





