পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার, ১৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের সাত্তার ব্যাপারীর বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে আশপাশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে একটি গর্তের সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের গাছের ডালপালা ও পাতা ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে জাজিরা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরিত ককটেলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলটি সেখানে কীভাবে এলো এবং কারা এটি মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলাশপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে এলাকায় প্রায়ই ককটেল বিস্ফোরণ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং অবৈধভাবে বিস্ফোরক তৈরির ঘটনা ঘটছে। একের পর এক এমন ভয়ংকর কাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এর আগে গত ৩১ মে এই ইউনিয়নের জানখারকান্দি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারও আগে গত ২৯ মে চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ককটেল কুড়িয়ে পেয়ে খেলার ছলে বিস্ফোরণের শিকার হয় ১০ বছর বয়সী এক শিশু। ওই ঘটনায় শিশুটির একটি হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি এই মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকাতেই গোপনে ককটেল তৈরির সময় অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণে তিনজনের নির্মম মৃত্যু হয়। বারবার এসব ঘটনার পরও এলাকায় অবৈধ ককটেল মজুত ও বিস্ফোরণ বন্ধ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।





