এ ঘটনার জেরে বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিন সন্তানের মা সুদানি নাগরিক জয়নাব জানান, ভয়ে তিনি ঘর ছেড়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় তিনি শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছেন।
জয়নাব বলেন, ‘আমরা যা ঘটেছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। দুর্ভাগ্যবশত অভিযুক্ত ব্যক্তি সুদানি। কিন্তু আমাদের মানুষরা সাধারণত এমন হয় না; তারা দয়ালু ও উন্নত চরিত্রের জন্য পরিচিত।’ একটি আইরিশ পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সবাই যে আমাদের অপছন্দ করে তা নয়। এখনো অনেক ভালো মানুষ আছে যারা আমাদের বিপদে এগিয়ে এসেছে।’
মঙ্গলবার শহরজুড়ে এক থমথমে নীরবতা বিরাজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকির মুখে ব্যবসায়ীরা সময়ের আগেই দোকানপাট বন্ধ করে দেন। উগ্র ডানপন্থি নেতা টমি রবিনসন এবং ইলন মাস্কের শেয়ার করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি তালিকায় বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। টমি রবিনসন এই বিক্ষোভকে ‘আক্রমণকারীদের’ বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ হিসেবে উসকানি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দাঙ্গাকারীদের মধ্যে অনেক ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে। তারা বেলফাস্টের বিভিন্ন রাস্তায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। একটি হালাল মাংসের দোকানের শাটারের ওপর ইসলামবিরোধী স্লোগান লিখে দেয়া হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উত্তর আয়ারল্যান্ডের পরিচালক প্যাট্রিক করিগান বলেন, আগের দাঙ্গাগুলোর তুলনায় এবারের অস্থিরতায় ‘ইসলামবিদ্বেষ’ সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠেছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ১৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ জাতিগত সংখ্যালঘু। তা সত্ত্বেও গত তিন বছর ধরে দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে বর্ণবাদী সহিংসতা বাড়ছে। ভিকটিম সাপোর্ট কমিশনার জেরাল্ডিন হানা এ পরিস্থিতিকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হুমকির কারণে পুরো বেলফাস্ট থমকে গেছে। স্কুল, গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র আতঙ্কের কারণে।’
দাতব্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার মুখে প্রায় ২০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিরা চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে ‘বিদেশি’ যাত্রী খুঁজছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। উত্তর বেলফাস্টে দাঙ্গাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। রাজনৈতিকভাবে সিন ফেইন দলের নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের কথা বলে এ বিক্ষোভের পক্ষ নিয়েছে।





