যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ও ইরান যুদ্ধের জেরে পাঞ্জাবে কৃষকদের বিক্ষোভ

পাঞ্জাবে কৃষকদের বিক্ষোভ
পাঞ্জাবে কৃষকদের বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি ও ইরান যুদ্ধের জেরে সারের সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের পাঞ্জাব। রাজপথে নেমেছেন কৃষকরা, পোড়ানো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা। এসময় সার ও জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে কৃষক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষি পণ্যের বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে।

কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে বারবার জড়িয়ে যাচ্ছে পাঞ্জাবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর অমৃতসর। ভারতের খাদ্যভান্ডারের কেন্দ্রবিন্দু ও শিখ সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র খ্যাত ঐতিহাসিক এই শহরের রাজপথে আবারও কৃষকরা। ইরান যুদ্ধের জেরে সারের সরবরাহ সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ এখানকার কৃষক সংগঠন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে সারের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। যা স্বাভাবিক করতে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের কারোই মাথাব্যথা নেই। এছাড়া জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন তারা।

আরও পড়ুন:

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের কারণে সার উৎপাদনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের সরবরাহ আটক আছে। ঘাটতি বেড়েই যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান চাই। সরকার পরিচালিত সমবায় সমিতিগুলোও ন্যানো ইউরিয়া এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করছে, যা কৃষকদের প্রয়োজন নেই।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সরকার বিভিন্ন সমিতি সংগঠনের মাধ্যমে যে সব সার সুলভে সরবরাহ করছে তা আপাতত কৃষকদের প্রয়োজন নেই। ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যা সারের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই সংকট মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জানান তারা।

অমৃতসরের এই কৃষক সংগঠনের ক্ষোভের আরও একটি বড় কারণ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি। বড় ভর্তুকি পাওয়া মার্কিন কৃষিপণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশ করলে কমে যেতে পারে দেশীয় পণ্যের দাম। এছাড়া চুক্তির কারণে আমদানিকৃত পশুখাদ্য ও ডিডিজিএস সস্তা হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অভ্যন্তরীণ সয়াবিন ও তৈলবীজ বাজারে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, মার্কিন কৃষিপণ্য ভারতে প্রবেশে লাখ লাখ প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাবেন, যা একটি বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়ংকর হতে পারে।

এসএস