ইরানের ৭ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আইআরজিসির এক সামরিক মহড়ায় উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
আইআরজিসির এক সামরিক মহড়ায় উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল (শুক্রবার, ৫ জুন) গভীর রাতে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দ্য ন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, উপসাগরীয় দুই দেশের ওপর এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, চারটি ইরানি ড্রোন হরমুজ প্রণালির দিকে ছোঁড়া হয়েছিল। এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে আরও সামুদ্রিক হামলা প্রতিরোধে মার্কিন বাহিনী ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায় বলে জানায় সেন্টকম।

এক্সে দেয়া পৃথক এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ইরান যে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তার মধ্যে ছয়টি তারা প্রতিহত করেছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন সেনাসদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ইরানের এমন দাবি মিথ্যা।’ এতে আরও বলা হয়, ‘সেন্টকম বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থে ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।’

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ফল। তারা জনগণকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালির সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে অঞ্চলজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোর’ বিরুদ্ধে এ হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের ‘শত্রুদের’ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে পড়তে হবে।

চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় হামলা। বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরও ৬৩ জন আহত হন। উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে অন্তর্বর্তী চুক্তি করতে ওয়াশিংটন ও তেহরান মূলত পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেয়ার প্রস্তাব থাকলেও কয়েক সপ্তাহের শান্তি আলোচনা এখনো সংঘাতের সমাধান আনতে পারেনি।

সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান তেল বিক্রির রাজস্ব থেকে কয়েকশ কোটি ডলারে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তাদের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে ইরান কার্যত এ প্রণালির চলাচল বন্ধ করে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। তিনি এনবিসিকে বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হলেও দেশটির হাতে এখনো প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোনও আছে। শতাংশের হিসাবে বললে, তাদের হাতে হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এটি অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, কিন্তু আমরা প্রথম হামলা চালানোর সময় যা ছিল, এখন আর তা নেই।’

ইরানের নেতারা যদি তার বর্ণনার মতোই চাপে থাকেন, তাহলে তারা কেন দ্রুত কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ তারা শক্তিশালী। তারা গর্বিত। এমন কিছু কাজ তাদের করতে হবে, যা করার কথা তারা কখনো ভাবেনি। তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। তবে এতে কিছুটা সময় লাগে।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে।

এএম