চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটিই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম বিদেশ সফর। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধের পর মিয়ানমারের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা এই নেতৃত্বের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলো কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল রয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের স্বার্থে প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতি দিল্লির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা দখল করার পর দেশজুড়ে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব ভারতেও পড়ে। বিশেষ করে মিয়ানমারের চিন নৃগোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষ মিজোরাম ও মণিপুরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনেক বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভোট না হওয়ায় সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। সামরিক অনুগতদের আধিক্য থাকা সেই পার্লামেন্টে গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি গতকাল (সোমবার, ১ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৈঠকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন মোদি। তিনি বর্তমানে গৃহবন্দি থাকা অং সান সু চির প্রসঙ্গটিও তোলেন। দিল্লি জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার মাধ্যমে ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশই একে অপরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিন অং হ্লাইং আশ্বাস দিয়েছেন যে মিয়ানমারের মাটি ভারতের স্বার্থবিরোধী কাজে ব্যবহৃত হবে না। অন্যদিকে মোদি মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের জন্য এই সফর একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়। মিয়ানমারে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজীব ভাটিয়া বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া মিয়ানমারের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।’ অন্য একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় মনে করেন, মিন অং হ্লাইং একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
ভারতের জন্য এই সফরের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। উত্তর-পূর্ব সীমান্তের স্থিতিশীলতা ছাড়াও মিয়ানমারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা দিল্লির অন্যতম লক্ষ্য। চীনের জন্য মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার ইস্যুতে খুব একটা আগ্রহ না দেখানো এবং শরণার্থী ও বিরোধী গোষ্ঠীর সহায়তা কমিয়ে দেয়াও দিল্লির জন্য এই আলোচনার পরিবেশ সহজ করে তুলেছে।





