স্মার্টফোন হাতে তরুণ থেকে কর্মজীবী—সবাই এখন নির্ভরশীল মোবাইল ডাটার ওপর। কিন্তু আগের তুলনায় একই পরিমাণ ডাটা কিনতে এখন বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবহারকারীদের।
শিক্ষার্থী ও ব্যবহারকারীরা বলছেন, দাম বাড়ায় নিয়মিত প্যাক কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মানসম্মত ডাটা প্যাক চালু করলে অতিরিক্ত খরচ কমবে।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘মিনি প্যাকগুলা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। যার কারণে আমরা তিন দিন বা সাত দিনের যে প্যাকেজগুলো আগে একটু কমে পেতাম, সেটা এখন অনেক বেশিতে পাচ্ছি। কারণ, এক মাস নিয়ে আমাদের অ্যাকচুয়ালি লাভ হয় না, লাগেও না।’
অন্য আরেকজন বলেন, ‘যদি স্টুডেন্ট প্যাকেজগুলা থাকত, ধরেন আমি একদিনের জন্য একটা বড় একটা প্যাকেজ পেতাম। যদি স্টুডেন্ট আইডেন্টিফিকেশন করতে অসুবিধা হয়, তাহলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড জমা দিয়ে স্টুডেন্টরা প্যাকেজ নিতে পারত। এরকম কোনো একটা সিস্টেম করলে হয়তো আমাদের জন্য একটু বেনিফিট হইত আরকি।’
আরও পড়ুন:
তবে মোবাইল অপারেটরদের দাবি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ব্যয় বাড়ায় ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন অফার ও উচ্চগতির সেবা চালুর বিষয়টিও এর সাথে সম্পৃক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট এখন মৌলিক ডিজিটাল সেবার অংশ হয়ে উঠেছে। তাই ডেটার মূল্য নির্ধারণে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ও সেবার মান—দুই দিকেই নজর রাখতে হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আলমাস কবির বলেন, ‘দেখেন, আমাদের দেশে কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটের দাম এখনো অনেক বেশি, আপনি যদি ইন্টারন্যাশনালি কম্পেয়ার করেন। এবং এ কমপ্লেইন তো আমরা বহুদিন ধরে করে আসছি যে, আমাদের এখানে ডেটা প্যাক, আমরা যখন একটা রিচার্জ করি, সেই রিচার্জ করে যে আমরা যে সেটার বিপরীতে যে ডেটাটা পাই বা অথবা টকটাইম পাই, সেটা কিন্তু যথেষ্ট না। ইন্টারনেট সেবাকে যত—মানে সবচাইতে সাশ্রয়ী মূল্যে অ্যান্ড্রয়েড ইউজারের কাছে পৌঁছে দিতে না পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রবলেমের সলিউশন হবে না।’
প্রযুক্তি নির্ভর এই সময়ে মোবাইল ডাটা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার অংশ। তাই দাম, গতি আর গ্রাহকসেবার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।




