শত বছর আগে নড়াইল সদরে চিত্রা নদীরপাড়ে গড়ে ওঠে শিংগাশোলপুর বাজারের কামারপাড়া। বছরজুড়ে নানা ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করা হলেও কোরবানিতে বাড়ে কদর।
এরই মধ্যে ঠুং ঠাং শব্দে মুখর কামারপাড়া। আগুনে পোড়ানো লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বটি-ছুরিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। শেষমুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
কারিগরদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ছোটবেলার থেকে এই কাজ করতেছি। বাবা, ঠাকুরদা, তারপর আমার বাবা সব পুরো দুইশো বছর হয়ে গেছে।’
শুধু শিংগাশোলপুর বাজার নয়; জেলার তিন শতাধিক কারখানায় অন্তত দুই হাজার শ্রমিকদের তৈরি হয়েছে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ। নতুনের পাশাপাশি পুরনো দা-বটি, ছুরি-চাপাতি শান দিতে কাজ করছেন তারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন জেলায়।
আরও পড়ুন:
একজন কারিগর বলেন, ‘বিভিন্ন প্রান্ত এলাকার মানুষ আসছে আমাদের এইখান থেকে ছুরি, চাপাতি সবকিছু তৈরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গোপালগঞ্জ চলে যাচ্ছে, এদিকে কালিয়া চলে যাচ্ছে, এদিক নড়াইল।’
স্থানীয় কামারদের তৈর জিনিসপত্রের মান ভালো বলছেন বিসিক কর্মকর্তারা।
নড়াইল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘বিসিক শিল্পের অভিভাবক হিসেবে এই আদি পেশাটাকে যাতে আরও এগিয়ে নিতে পারে, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’
জেলার তিন উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ৩০টি হাট-বাজারে আকার ভেদে প্রতিটি চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। জবাই ছুরি বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। আর বটি বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় তিন কোটি টাকার জিনিসপত্র বিক্রির আশা করছেন কারিগররা।




