ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে শত শত বাথানে পালন করা হয় মহিষ ও গরু। দীর্ঘ বছর ধরে এই পশুপালনই এখানকার মানুষের জীবিকা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এখানকার মহিষ ও গরুর চাহিদা থাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
চরাঞ্চলে এখন চুরি-ডাকাতির আতঙ্ক। মাঝের চর, ভেলুমিয়া চর, বাগমারা চর, চর কালুপুর, বৈরাগীর চর, কেকরার চর, নেয়ামতপুর চরসহ ১২৪টি চরে এখন চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। খামারিদের অভিযোগ, গভীর রাতে অস্ত্রধারীরা চরাঞ্চলে প্রবেশ করে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে বাথান থেকে মহিষ ও গরু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাধা দিতে গেলে দেয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।
খামারিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কারও গরু-ছাগল লইয়া যায়। অহন আমাগো চরাঞ্চল আছে, আমরা তো বহুত পাহারাদার পেয়াদার রইছি ইনশা আল্লাহ। অহন পাহারাদার থাহি, কোনদিন আমাগোরে আবার ফাক দিয়া লইয়া যায়।’
খামারিদের দাবি, সাম্প্রতিক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল না থাকায় চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে-বলছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন:
খামারিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘রাইতের ৩টা বাজে, ২টা বাজে গরু-বাছুর লইয়া যায় আমাগো ওই গাড়ি দিয়া। অস্ত্র থাহে হাগোরতনে, আমরা ডর হয় এগো ধারে যাইতি না।’
এদিকে গরু-মহিষ চুরি ঠেকাতে ভোলার বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি খামার মালিক সমিতির।
ভোলা সদর উপজেলার খামার মালিক অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ইমরুজ আলম টিমন বলেন, ‘চুরি ঠেকানোর জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়, জেলা পুলিশ মহোদয় এরা যদি বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে দেন, তাহলে আমি মনে করি যে তারা যারা চোর, চুরি করে তারা স্বার্থে পারবে না আরকি, সরতে পারবে না।’
তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশের কর্মকর্তা।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের হচ্ছে ইলিশা ঘাট, স্পেশালি এখান থেকে আমাদের পুলিশ এখন ডিউটি করতেছে। বাংলাবাজার বিভিন্ন জায়গায় আমাদের চেকপোস্ট কার্যক্রম আছে, সেসব জায়গায় চেক করতেছে। আর পাশাপাশি যদি গবাদিপশু হচ্ছে নদীপথে যদি হচ্ছে আপনার পরিবাহিত হয়, সেক্ষেত্রে কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় রেখেছি, তাদেরকেও আমরা রিকোয়েস্ট করছি যেন এই বিষয়টা ভালোভাবে দেখে।’
ঈদ ঘিরে চরাঞ্চলে গবাদিপশু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে উপকূলের এই বিশাল অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।




