পুতিনের সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় বিকল্প বাজার হিসেবে চীনের সঙ্গে এই চুক্তিটি ছিল মস্কোর জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে ঐক্যমত হলেও কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এখনো ঝুলে আছে। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জ্বালানি সহযোগিতাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘ভিত্তিপ্রস্তর’ বললেও তার বক্তব্যে পাইপলাইনটির কোনো উল্লেখ ছিল না। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লাইল মরিস বলেন, ‘এটি পুতিনের জন্য এক বড় ধাক্কা ও অস্বস্তির কারণ। বেইজিং এখন রাশিয়ার ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করছে।’
গ্যাস চুক্তি না হলেও দুই দেশ বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে ৪০টিরও বেশি চুক্তিতে সই করেছে। শি জিনপিং এই সম্পর্ককে ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া দুই দেশ সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ মহড়া ও টহল বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে মস্কো ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে চীন কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে দুই দেশই তৃতীয় দেশে সামরিক হামলা, রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পুতিনের এই সফরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের ঠিক পরপরই অনুষ্ঠিত হলো। বেইজিং দুই নেতার জন্যই প্রায় একই ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করেছিল—লাল গালিচা, শিশুদের অভিবাদন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এর বাইরে ২১ বার তোপধ্বনি।
জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইভান মেদেইরোস বলেন, ‘শি জিনপিং অত্যন্ত কৌশলে দুই নেতার সঙ্গেই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে চীনকে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।’ তবে ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যাপল বা টেসলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা থাকলেও পুতিনের সঙ্গে ছিলেন মূলত রুশ সরকারের মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানির প্রধানেরা।





