যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: আলোচনায় গতি আনতে পাকিস্তানের দৌড়-ঝাঁপ

তেহরানের রাস্তায় ইসরাইল বিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী
তেহরানের রাস্তায় ইসরাইল বিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঝুলে থাকা শান্তি আলোচনায় গতি আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। তেহরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘সঠিক উত্তরের’ জন্য আর কয়েক দিন অপেক্ষা করতে পারেন, তবে চুক্তি না হলে পুনরায় হামলা শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি সামান্যই। এদিকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির দাম বাড়ায় জনপ্রিয়তার সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প।

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির আজ বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে যেতে পারেন। এর আগে গতকাল বুধবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

পাক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যোগাযোগের বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করছে যাতে আলোচনার গতি বাড়ে। ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে আসার বিষয়টি এখন মধ্যস্থতাকারীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিশ্বাস করুন, যদি সঠিক উত্তর না পাই, তবে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যাবে। আমরা হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস পালটা হুমকি দিয়ে বলেছে, নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। ইরান চলতি সপ্তাহে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে আগের মতোই কিছু শর্ত রয়েছে যা ট্রাম্প আগেই ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে ইরান সম্প্রতি ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ নামের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য শর্তসাপেক্ষে এই পথ খুলে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত বুধবার ৪৪ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুটি চীনা সুপারট্যাংকার এবং ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও তা যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় খুবই নগণ্য।

মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানে এরইমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যার রেশ পড়েছে লেবাননেও। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরান এই যুদ্ধবিরতির সুযোগে পুনরায় ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে।

এএম