প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক কূট-কৌশল যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করতে এই বানোয়াট নথিপত্র সাজানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬ সালের ওই ঘটনা নিয়ে মিথ্যা বলছে এবং সত্য বিকৃত করছে।’
কিউবার দাবি, ওই বিমানগুলো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা বৈধ পদক্ষেপ নিয়েছিল। এছাড়া ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর প্রতিষ্ঠাতা হোসে বাসুল্টোকে সিআইএর এজেন্ট এবং সহিংসতাকারী হিসেবে বর্ণনা করেছে কিউবা।
৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এল যখন কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, গত সাত দশকে কিউবান সরকার দেশটির অর্থনীতি ও জনগণকে শ্বাসরোধ করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দিয়াজ-ক্যানেল ট্রাম্পের এই বার্তার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘শুধু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষই পুরো একটি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া এই যৌথ শাস্তিকে অস্বীকার করতে পারে, যা আসলে একটি গণহত্যার শামিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা বলে যুদ্ধ বাঁধানো এবং মানুষ হত্যা করা এই সাম্রাজ্যের পুরোনো অভ্যাস। অবরোধ তুলে নিন, তারপর দেখা যাবে কী হয়।’
কিউবা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে তারা আকাশসীমা লঙ্ঘনের অন্তত ২৫টি অভিযোগ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দায়ের করেছিল। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী তাদের পদক্ষেপটি ছিল ‘বৈধ আত্মরক্ষা’।
ওয়াশিংটনকে ‘ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করে থাকে। কিউবার জনগণ তাদের মাতৃভূমি ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব রক্ষায় এবং নেতা রাউল কাস্ত্রোর প্রতি অবিচল সমর্থন বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



