ধূলিঝড়ের কবলে ইরাকের নাজাফ প্রদেশ, বাড়ছে রোগ-ভোগান্তি

ধূলোয় ছেয়ে যাওয়া নাজাফ প্রদেশের একটি অঞ্চল
ধূলোয় ছেয়ে যাওয়া নাজাফ প্রদেশের একটি অঞ্চল | ছবি: সংগৃহীত
0

ব্যাপক ধূলিঝড়ের কবলে ইরাকের নাজাফ প্রদেশ। ঝড়ে কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়কপথে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের বেলায়ও জ্বালাতে হচ্ছে গাড়ির হেডলাইট। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ এতটাই বেশি যে, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর উপচেপড়া ভিড়। সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা।

এ এলাকার ঝড়ের দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য। সূর্যাস্ত নাকি সুর্যোদয়-বোঝার উপায় নেই। ঘন কমলা রঙের ধুলার চাদরে ঢেকে আছে চারপাশ।

এমন দৃশ্য দেখা গেছে ইরাকের নাজাফ প্রদেশে। গতকাল (সোমবার, ১৯ মে) তীব্র এক ধূলিঝড়ের কবলে পড়ে এমন অগ্নিবর্ণ ধারণ করেছে ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমে মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত অঞ্চলটি।

ধূলিঝড় ইরাকে এখন আর কোনো সাময়িক ঘটনা নয়। বিশেষ করে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এটি নিয়মিত আঘাত হানে। ২০২২ ও ২০২৫ সালের দিকে দেশটিতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দফায় দফায় ধূলিঝড় রেকর্ড করা হয়েছিলো। যদিও অতীতে এর তীব্রতা এত বেশি ছিলো না।

আরও পড়ুন:

সোমবারের ঝড়ের পর সড়কগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে নাজাফবাসী। ধূলোর কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে চালকদের, পরতে হচ্ছে মাস্ক। এ ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নাগরিক জীবন।

আর ঝড়ের পর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে একের পর এক রোগী। বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থাই বেশি আশঙ্কাজনক। আল-হাকিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাই দম ফেলার ফুরসত নেই চিকিৎসকদের।

এক চিকিৎসক বলেন, ‘ধূলিঝড়ের শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাঁপানি ও সিওপিডি-তে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেশি। কারণ তারা এই ধূলিঝড় সহ্য করতে পারছেন না। তবে আমরা প্রস্ততি নিয়ে রেখেছি। গুরুত্বের সঙ্গে সবাইকে চিকিৎসা দিচ্ছি।’

ঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় আগেই প্রস্তুত ছিলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সময়মতো চিকিৎসা মিললেও রোগীদের সহসা ছাড়পত্র দিচ্ছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা। অক্সিজেন দিয়ে রাখা হচ্ছে অবজারভেটোরি ইউনিটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন আবহাওয়ায় বাইরে বের হলে সুস্থ ব্যক্তিরও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা শুরু হতে পারে।

এসএইচ