রাজশাহীর দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন; ছিনতাইকৃত অর্থসহ গ্রেপ্তার ২

অস্ত্র-সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার দুই আসামি
অস্ত্র-সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার দুই আসামি | ছবি: এখন টিভি
0

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত ‘ক্লুলেস’ দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গ্রেপ্তারের সময় তাদের থেকে একটি পিস্তল সদৃশ্য বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকাসহ দু’টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

দস্যুতায় জড়িত গ্রেপ্তাররা হলেন— নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান ডাবলু। নগরির মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। পরে দুধ আনলোডের পর রাজশাহী সেন্টার থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।

এর কিছুক্ষণ পর দুধের লরিটি, মহানগর বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীপাড়ায় পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে এসে লরির গতি রোধ করে। এসময় তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে এবং ভেতরে রাখা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

এ ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবির এক চৌকস দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে ডিবির একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ডাবলুর কাছ থেকে নগদ ২৬ হাজার টাকা এবং অপরজন, মিলনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দস্যুতায় ব্যবহৃত পিস্তলসদৃশ বস্তু এবং নগদ ৭ হাজার টাকা।

এছাড়া তাদের উভয়ের কাছ থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোনও জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএইচ