পুতিনের চীন সফর: দুই দেশের মধ্যে ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

শি জিনপিং ও পুতিন
শি জিনপিং ও পুতিন | ছবি: সংগৃহীত
0

পুতিনের দুই দিনের চীন সফরে বেইজিং ও মস্কো মধ্যে প্রায় ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়। এক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসারের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র জারি করবেন শি জিনপিং ও পুতিন। এদিকে, পুতিন বলেছেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক বিশ্বে স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষ হতেই চীন সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন শি জিনপিং ও পুতিন। বিশ্বে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে রাশিয়া ও চীন যখন সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে, ঠিক এই সময়েই বেইজিংয়ে পুতিন।

দুই দেশের প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিনের চীন সফর। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একে অপরকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া-চীন সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। লাভজনক ও ন্যায়সঙ্গত সহযোগিতা অনুসরণ করে অঙ্গীকার ও সম্মানজনক সংলাপ পরিচালিত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য সুরক্ষাসহ উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরস্পরকে সমর্থন করার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর ও জোরদার হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

সফর সম্পর্কে পুতিন আরও বলেন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চীন- রাশিয়ার সম্পর্ক প্রসারিত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি যোগ করেন, মস্কো ও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক বিশ্বে স্থিতিশীলতা আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট নিয়ে একান্তে বৈঠক করবেন শি ও পুতিন। এ সময় এক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্রও জারি হতে পারে।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে বেশকিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত প্রসারিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। যা উভয় দেশ ও জনগণের জন্য লাভজনক হয়েছে। পুতিনের সফরে এ বিষয়গুলো আরও প্রসারিত হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘দুই দেশের কৌশলগত নির্দেশনায় ব্যাপক অংশীদারিত্ব সুস্থ, স্থিতিশীল ও গভীরতরভাবে বিকশিত হবে। এতে লাভবান হবেন উভয় দেশের জনগণ। বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারে অবদান রাখছে চীন ও রাশিয়া।’

তবে চীনের বাসিন্দাদের মতে, ট্রাম্পের পর পুতিনের সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্বের পরাশক্তিদের মধ্যে চীনের অবস্থান অনেক শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার চীনকে কাছে টানার চেষ্টা করছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

রুশ প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বেইজিংয়ে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপয়েন্ট ও সাঁজোয়া যান। বুধবার বৈঠকে বসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এফএস