রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতীকী
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতীকী | ছবি: সংগ্রহীত
0

ইরান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ‘জ্বালানি-ঝুঁকিতে থাকা’ দেশগুলোকে সহায়তা করতে রাশিয়ার সমুদ্রবাহিত তেল কেনার ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর পূর্ববর্তী পরিকল্পনা থেকে সরে এলো ওয়াশিংটন। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘শনিবার আগের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রেজারি বিভাগ নতুন করে ৩০ দিনের এই সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে।’ এর ফলে ট্যাংকারে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সাময়িকভাবে বাজারে প্রবেশ করতে পারবে এবং এতে রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হবে না। রয়টার্সের কাছে এক সূত্র জানিয়েছে, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেসব গরিব ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশ উপসাগরীয় তেল পাচ্ছে না, তাদের অনুরোধেই দ্বিতীয়বারের মতো এই ছাড় দেয়া হলো।

বেসেন্ট বলেন, ‘এই ছাড় অতিরিক্ত নমনীয়তা দেবে এবং আমরা এই দেশগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট লাইসেন্স দিয়ে সহায়তা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সাধারণ লাইসেন্স অপরিশোধিত তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করতে এবং সবচেয়ে বেশি জ্বালানি-ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে তেল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।’

গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বেসেন্ট বলেছিলেন, ‘রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।’ তবে সোমবার তিনি যুক্তি দেন, এই পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে অভাবী দেশগুলোর দিকে তেলের সরবরাহ ফেরানো সম্ভব হবে। এতে তারা আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল কেনার জন্য চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আবার বাড়াল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই জ্যেষ্ঠ সিনেটর, নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন এবং ম্যাসাচুসেটসের এলিজাবেথ ওয়ারেন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা এটিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি ‘অগ্রহণযোগ্য উপহার’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং তেলের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানি রোজনেফ্‌ত ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে ট্রেজারি বিভাগ সরবরাহ সংকট কমাতে এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে প্রথমবার মার্চ মাসে এই অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করে। তবে এই ছাড় বর্তমানে রাশিয়া থেকে উৎপাদিত নতুন তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এএম